নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর রায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে নেতাকর্মীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্থানীয় সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ এবং নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বিক্ষোভে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পর্যায়ের কয়েকজন সাবেক নেতা ও জনপ্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক পানি সম্পদমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগের প্রচার ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। সেখানে ট্রাইব্যুনালের রায় প্রত্যাখ্যান এবং দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের প্রচারপত্রে রায়কে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ ও ‘সাজানো বিচার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা তুলে ধরে বিচারপ্রক্রিয়া ও প্রহসনের রায় প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে রায় বাতিলের দাবি জানান। সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

এদিকে মঙ্গলবার বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান–সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

আওয়ামী লীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা পরিচালনা, উসকানি বা সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছিল। মামলায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ড, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। ট্রাইব্যুনাল রায়ে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেও জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনাল সাত নেতাকে তাদের অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা তাদের পক্ষে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

https://www.youtube.com/watch?v=MTX07lQq1wU