NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬ | ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
Logo
logo

ওয়াকআউট করা নেতাদের ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বললেন নেতানিয়াহু, প্রায় শূন্য মঞ্চে ভাষণ


খবর   প্রকাশিত:  ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:০৯ পিএম

ওয়াকআউট করা নেতাদের ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বললেন নেতানিয়াহু, প্রায় শূন্য মঞ্চে ভাষণ

ভেতরে-বাইরে প্রতিবাদ আর বিক্ষোভের মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নেতানিয়াহু যখন ভাষণ দিতে মঞ্চে আসেন, তখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা দল বেঁধে ওয়াকআউট করেন।

 

বিব্রত নেতানিয়াহু ওয়াকআউট করা নেতাদের ‘নৈতিক কাপুরুষ’ অভিহিত করে বলেন, ‘আরো কোনো নৈতিক কাপুরুষ যদি যেতে চান, আমার ভাষণ শুরুর আগেই চলে যান।’ জাতিসংঘের প্রায় শূন্য মঞ্চে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু তার যুদ্ধের পক্ষে সাফাই গান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করলেও তীব্র সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির। তার ভাষায় ‘ইহুদিবিদ্বেষী জনতার’ কাছে নতি স্বীকার করায় পশ্চিম ইউরোপীয় নেতাদের তিরস্কার করেন।

নেতানিয়াহু কাতার ও তুরস্কের বিরুদ্ধে ইসরায়েল সম্পর্কে মিথ্যা ছড়ানোর অভিযোগ আনেন।

 

জোহরানমামদানি তার নির্বাচনি প্রচারণার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, নেতানিয়াহু যদি নিউইয়র্ক আসেন, তবে যুদ্ধাপরাধের জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি জানান যে এটি করার মতো আইনি কর্তৃত্ব তার নেই। এই সপ্তাহে,মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

জাতিসংঘের ভাষণে মামদানির উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আপনারা আমাকে এখানে আসা থেকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন। আপনারা চেষ্টা করেছিলেন। আপনারা আমাকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আপনারা আমাকে স্তব্ধ করতে পারবেন না। আপনারা সত্যকে স্তব্ধ করতে পারবেন না।

’ 

 

নেতানিয়াহু বলেন, ‘এখানে একটি সহজ সত্য রয়েছে, ইসরায়েল গণহত্যা চালায়নি। ইসরায়েল গণহত্যা প্রতিরোধ করেছে।’ 

মামদানির বিরুদ্ধে হামাস যোদ্ধাদের সমর্থনের অভিযোগ এনে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমার দেশ এবং আমাদের সাহসী সৈন্যদের সম্পর্কে যারা এই মিথ্যা ছড়াচ্ছেন, তারা এই হলের ভেতরেই বসে থাকুন বা নিউ ইয়র্কের ইহুদিবিদ্বেষী মেয়রের দপ্তরেই থাকুন, আমি তাদের এই কথাই বলব : আপনাদের ধিক্কার!’

নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে মামদানি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বারবার যা করে এসেছেন, এবারও তার ভাষণে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যাকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে সেই একই ভিত্তিহীন মিথ্যার পুনরাবৃত্তি করেছেন। তবে কোনো মিথ্যাই এই সত্যকে বদলে দিতে পারবে না যে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-আইসিসির একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তাঁর বিরুদ্ধে বহাল রয়েছে।’

শুধু জাতিসংঘের ভেতরে নয়, নিউইয়র্কের রাজপথেও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। জাতিসংঘ ভবনের কাছাকাছি এলাকায় বেশ কয়েক শ বিক্ষোভকারী জড়ো হন, যাদের মধ্যে ডজন ডজন মানুষ যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

বিক্ষোভকারীরা ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করো, গাজাকে বাঁচতে দাও’, ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করো, ইরানকে বাঁচতে দাও’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে।