২০২৫ সালের আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের ফাইনাল ঘিরে বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত দিয়েছে আফ্রিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল। রাবাতে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালের ফল বাতিল করে ৩-০ ব্যবধানে মরক্কো-কে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে শিরোপা উঠেছে তাদের হাতেই।
গত ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ফাইনালে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল সেনেগাল।
ঘটনার সূত্রপাত যোগ করা সময়ে। গোলশূন্য অবস্থায় স্বাগতিক মরক্কোর পক্ষে পেনাল্টি দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সেনেগাল দল।
পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি ব্রাহিম দিয়াজ। তার শট ঠেকিয়ে দেন সেনেগালের গোলরক্ষক।
মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশন এফআরএমএফ আপিল করলে বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করে কাফ। সংস্থার আপিল বোর্ড আপিলকে ‘প্রক্রিয়াগতভাবে গ্রহণযোগ্য’ বলে রায় দেয় এবং পূর্বের ফল বাতিল করে।
কাফের বিবৃতিতে জানানো হয়, ম্যাচ চলাকালে ‘দলীয় আচরণ’-এর মাধ্যমে সেনেগাল প্রতিযোগিতার ৮২ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে।
এফআরএমএফ তাদের বিবৃতিতে জানায়, এই আপিলের উদ্দেশ্য ছিল না প্রতিপক্ষের ক্রীড়া-নৈপুণ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা; বরং প্রতিযোগিতার বিধিমালা যথাযথভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে তারা নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, কাফের শৃঙ্খলা কমিটি শুরুতে মরক্কোর অভিযোগ খারিজ করলেও আপিল বোর্ড পরে সেই সিদ্ধান্ত উল্টে দেয়। মঙ্গলবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রায় ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে সেনেগাল জানিয়েছে, তারা বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট-এ নিয়ে যাবে এবং কাফের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।
ম্যাচ চলাকালে কোচ পাপা বউনা থিয়াও-এর নির্দেশেই মাঠ ছেড়েছিলেন সেনেগালের খেলোয়াড়রা। পরে অধিনায়ক সাদিও মানে তাদের ফেরান। এ ঘটনার জেরে কোচকে পরবর্তী বাছাইপর্বের একটি ম্যাচে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকার সেরা হওয়ার স্বাদ পেল মরক্কো। এর আগে প্রায় ৫০ বছর আগে প্রথমবার শিরোপা জিতেছিল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।


