টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালে ভারতের দাপুটে জয়ের রাতে ব্যাটিং ঝড়ই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে সেই রাতের সবচেয়ে আবেগঘন গল্পগুলোর একটি ছিল ভারতীয় ব্যাটার ঈশান কিশানকে ঘিরে। ব্যক্তিগত শোক বুকে নিয়েই ফাইনালে খেলতে নেমে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি।
ফাইনালের ঠিক একদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিজের চাচাতো বোন ও তার স্বামীকে হারান ঈশান।
এই দুঃসংবাদে শোকের ছায়া নেমে আসে কিশানের পরিবারে। ভারতের ফাইনাল দেখতে আহমেদাবাদে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বাড়িতেই থাকতে হয় তার বাবা প্রণব পাণ্ডেকে।
ফাইনালের প্রস্তুতির সময়ই দুর্ঘটনার খবর পান কিশান। স্বাভাবিকভাবেই তিনি পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। তবে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সামনে থাকায় শেষ পর্যন্ত সতীর্থদের সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
সতীর্থরা লক্ষ্য করেন, সাধারণত অনুশীলনে প্রাণবন্ত থাকা কিশান সেদিন অনেকটাই নীরব ছিলেন। অনুশীলনের সময় অনেক সতীর্থ তার পাশে দাঁড়িয়ে তাকে মানসিকভাবে শক্ত থাকার সাহস দেন।
ফাইনালের দিন মাঠে নেমে অবশ্য ভিন্ন এক কিশানকে দেখা যায়। তিন নম্বরে নেমে মাত্র ২৫ বলে ৫৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তার এই ইনিংস ভারতের বিশাল সংগ্রহ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও উজ্জ্বল ছিলেন কিশান। তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ নেন, যা প্রতিপক্ষের রান তাড়ার পথ আরো কঠিন করে তোলে।
অর্ধশতক পূর্ণ করার পর ব্যাট তুলে আকাশের দিকে ইঙ্গিত করেন কিশান। পরে জানান, এই ইনিংসটি তিনি উৎসর্গ করেছেন তার প্রয়াত চাচাতো বোনকে।
কিশান বলেন, ‘গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় আমি আমার চাচাতো বোনকে হারিয়েছি। সে সবসময় চাইত আমি বড় ইনিংস খেলি। এই ইনিংসটা তার জন্য।’


