প্রবাস
নিউইয়র্কে জমকালো ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড-২০২৬: সেরা নায়ক শাকিব খান-নিউইয়র্ক: আটলান্টিকের ওপারে মার্কিন মুলুকের নিউইয়র্ক শহর যেন এক রাতের জন্য রূপ নিয়েছিল এক টুকরো বাংলাদেশে। জমকালো আলোকসজ্জা, তারকাদের বর্ণিল সাজ আর চোখধাঁধানো গ্ল্যামারে চারপাশ মেতে উঠেছিল একদম উৎসবের আমেজে। সুযোগটি ছিল ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’-এর। দুই দেশের জাতীয় সংগীতের আবেগঘন সূচনার মধ্য দিয়ে যখন এই তারকাখচিত মহাযজ্ঞের পর্দা উঠল, তখন করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাংলা সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে বিশ্বস্ততার সাথে তুলে ধরার পাশাপাশি বিনোদন জগতের গুণীদের সম্মানিত করার এই আয়োজন প্রবাসীদের জন্য নিয়ে এসেছিল এক আলাদা উন্মাদনা। সাতটি বড় বড় ক্যাটাগরিতে মোট ৩৭ জন উজ্জ্বল শিল্পীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে কাঙ্ক্ষিত এই সম্মাননা। সেই সাথে প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি চর্চা ও প্রসারে অনন্য অবদানের জন্য ১৩টি সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
চলচ্চিত্রের আলো ঝলমলে বিভাগে সেরা পরিচালকের সম্মাননা নিজের ঝুলিতে পুরেছেন বর্তমানের অন্যতম ব্যবসাসফল নির্মাতা রায়হান রাফি। আর পর্দায় দুর্দান্ত অভিনয়ের দ্যুতি ছড়িয়ে সেরা অভিনেত্রীর ট্রফি জিতে নিয়েছেন তমা মির্জা। খল চরিত্রে যার উপস্থিতি সিনেমায় আলাদা উত্তেজনা তৈরি করে, সেই মিশা সওদাগর পেয়েছেন সেরা খলনায়কের পুরস্কার। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ধরে নাটক, সিনেমা ও নির্মাণে মুন্সিয়ানা দেখিয়ে শিল্পকলা ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন গুণী অভিনেতা আফজাল হোসেন। আমাদের সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমে বহুমাত্রিক অবদান রেখে বিনোদন জগৎকে সমৃদ্ধ করার স্বীকৃতিস্বরূপ চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরকে সম্মানিত করা হয়েছে সম্মানজনক আজীবন সম্মাননায়।
রূপালি পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখদের উপস্থিতিও অনুষ্ঠানটিতে এনে দিয়েছিল দারুণ প্রাণচাঞ্চল্য। উৎসবের আলোয় সেরা টিভি অভিনেতার মুকুট মাথায় পরেছেন তরুণের পছন্দের অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান, আর সেরা টিভি অভিনেত্রী হিসেবে বাজিমাত করেছেন মিষ্টি হাসির অর্চিতা স্পর্শিয়া। পাশাপাশি দর্শকদের নিখাদ ভালোবাসায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকে যৌথভাবে সেরা অভিনেত্রীর খেতাব জিতে নিয়েছেন সামিরা খান মাহি ও ফাল্গুনী রহমান জলি।
গানের সুর আর ছন্দের আবহ না থাকলে কি আর জাঁকজমক অনুষ্ঠান জমে! সংগীত বিভাগে সুরের জাদুতে সেরা সংগীতশিল্পীর পুরস্কার কেড়েছেন শাহ মাহবুব, আর মিষ্টি কণ্ঠের জাদুতে সেরা নারী কণ্ঠশিল্পীর ট্রফি উঠে এসেছে অঙ্কন ইয়াসমিনের হাতে। এছাড়া মঞ্চ মাতিয়ে পুরস্কৃত হয়েছেন ইমরান মাহমুদুল, দিলশাদ নাহার কণা, মিলা ইসলাম ও ইবরার টিপুর মতো দেশসেরা তারকা গায়কেরা।
প্রবাসের মাটিতে দেশীয় সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র ও সুরের এই মেলবন্ধন যেন প্রমাণ করল সীমান্ত পেরিয়েও শিল্পীদের ভালোবাসা কতখানি জীবন্ত। আয়োজকদের আশা, সুদূর প্রবাসে প্রতি বছরের এই আয়োজন আন্তর্জাতিক আঙিনায় বাংলাদেশের সমৃদ্ধ শিল্প-সংস্কৃতিকে আরও উঁচুতে তুলে ধরবে।
শিল্প-সাহিত্য
আরবি সহ ১৪ ভাষায় বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’-নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এসব ভাষার মধ্যে রয়েছে উর্দু, জাপানি, চীনা, আরবি, ফরাসি, হিন্দি, তুর্কি, নেপালি, স্প্যানিশ, অসমিয়া, রুশ ও থাই।
২০২০ সালের ৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র ব্রেইল সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বইটি তখন পর্যন্ত প্রায় ১৪টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। আরও কয়েকটি ভাষায় অনুবাদের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১২ সালের জুনে। একই সময়ে বইটির ইংরেজি সংস্করণ ‘দ্য আনফিনিশড মেমোয়ার্স’ (The Unfinished Memoirs) প্রকাশিত হয়। ইংরেজি অনুবাদ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফকরুল আলম।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে থাকা অবস্থায় ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে আত্মজীবনী লেখার কাজ শুরু করেন। তাঁর হাতে লেখা চারটি খাতা উদ্ধার হওয়ার পর সেগুলোর ভিত্তিতে বইটি সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হয়। বইটিতে বঙ্গবন্ধুর জন্ম, শৈশব, পারিবারিক পরিচয়, শিক্ষাজীবন, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ, কলকাতা ও বিহারের দাঙ্গা, দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, আওয়ামী মুসলিম লীগ ও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং পাকিস্তানি শাসনামলের বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা ও তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বিবরণ রয়েছে।
প্রথম দিকের বিদেশি অনুবাদের মধ্যে ছিল ইংরেজি, চীনা ও জাপানি ভাষার সংস্করণ। জাপানি সংস্করণের অনুবাদক ছিলেন জাপান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (এনএইচকে) বাংলা বিভাগের কাজুহিরো ওয়াতানাবে। জাপানের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আশাহি সোতেন বইটি প্রকাশ করে। উর্দু সংস্করণের নাম ‘আধুরি ইয়াদেঁ’ (ادھوری یادیں)। পাকিস্তানের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস (Oxford University Press) থেকে ২০১৩ সালে প্রকাশিত একটি সংস্করণে অনুবাদক হিসেবে ইয়াওয়ার আমানের নাম পাওয়া যায়।
২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র আরবি সংস্করণের একটি কপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রিয়াদ এন. এ. মালকি। ফিলিস্তিন বইটি আরবি ভাষায় অনুবাদ করেছে। আরবি সংস্করণের অনুবাদক ছিলেন ফিলিস্তিনি অনুবাদক মোহাম্মদ দিবাজাহ (محمد ديباجة)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইয়েদ আবদুল্লাহ আল-মারুফ অনুবাদটি সম্পাদনা করেন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে অনুবাদটি করা হয়।
২০১৭ সালে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র ফরাসি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ফ্রান্সের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জিংকো এডিটর (Ginkgo Éditeur) বইটি প্রকাশ করে। ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন অধ্যাপক ফ্রান্স ভট্টাচারিয়া। ফরাসি সংস্করণটি প্যারিসের স্যালন লিভর (Salon du Livre) বইমেলায় পাওয়া যায়।
এরপর বইটির হিন্দি, স্প্যানিশ, তুর্কি, নেপালি, অসমিয়া ও রুশ ভাষার সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র স্প্যানিশ সংস্করণ উন্মোচন করেন। ওই সময়ের প্রতিবেদনে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, চীনা, জাপানি, ফরাসি, উর্দু, আরবি ও স্প্যানিশ ভাষার সংস্করণের কথা উল্লেখ করা হয়।
নেপালি সংস্করণের নাম ‘তি আধুরা সংস্মরণহারু’ (ती अधुरा संस्मरणहरु)। নেপালের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও সাবেক সার্ক মহাসচিব অর্জুন বাহাদুর থাপা এবং অধ্যাপক মহেশ পৌড়েল অনুবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
২০২০ সালের ৭ অক্টোবর ব্রেইল সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রায় ১৪টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং আরও কয়েকটি ভাষায় অনুবাদের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
২০২২ সালের আগস্টে থাই ভাষায় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র অনুবাদ প্রকাশিত হয়। থাইল্যান্ডের চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া স্টাডি সেন্টার এবং ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাস যৌথভাবে থাই সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। থাই সংস্করণ প্রকাশের সময় জানানো হয়, এর আগে বইটি ইংরেজি, উর্দু, জাপানি, চীনা, আরবি, ফরাসি, হিন্দি, তুর্কি, নেপালি, স্প্যানিশ, অসমিয়া ও রুশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া স্টাডি সেন্টারের পরিচালক সহকারী অধ্যাপক ড. জিরাইউদ সিন্থুফানের নেতৃত্বে থাই ভাষার অনুবাদক দল কাজ করে। ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট থাই সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ হিসাবে বাংলা মূল সংস্করণের সঙ্গে ইংরেজি, উর্দু, জাপানি, চীনা, আরবি, ফরাসি, হিন্দি, তুর্কি, নেপালি, স্প্যানিশ, অসমিয়া, রুশ ও থাই—এই ১৩টি ভাষার সংস্করণ মিলে মোট ১৪টি ভাষায় বইটির সংস্করণের তথ্য পাওয়া যায়।
পরবর্তী সময়ে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র মারাঠি সংস্করণও প্রকাশিত হয়। ২০২১ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের উদ্যোগে মারাঠি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। মারাঠি সংস্করণের নাম ‘অপূর্ণ আত্মকথা’।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন তালিকায় আরও কয়েকটি ভাষার নাম পাওয়া গেলেও সেসব সংস্করণের প্রকাশকাল, প্রকাশক ও অনুবাদসংক্রান্ত তথ্য সব ক্ষেত্রে একরকম নয়।
২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বইটি প্রায় ১৪টি ভাষায় অনূদিত হওয়ার কথা জানান। পরবর্তী সময়ে থাই ও মারাঠি ভাষায় নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংস্করণের সংখ্যা ও ভাষার তালিকায় পার্থক্য দেখা যায়।
বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র ব্রেইল সংস্করণও প্রকাশিত হয়েছে। ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছয় খণ্ডে প্রকাশিত ব্রেইল সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করেন।
প্রবাস
বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্সের-নিউইয়র্ক: বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যান ও প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির র্যাঙ্কিং মেম্বার গ্রেগরি মিক্স।
২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মিক্স আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব পেলে বাংলাদেশ সফর করে সেখানকার সামগ্রিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ এবং কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন।
গ্রেগরি মিক্স বলেন, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর তিনি আরও পাঁচ কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে, তা দৃশ্যমান করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।
মিক্সের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা এবং ত্রুটিপূর্ণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনরায় চালু করার মতো পদক্ষেপ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে কি না, সে বিষয়ে চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, আইনের শাসন কার্যকর রাখা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন এই কংগ্রেসম্যান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউয়ের বিরোধ এবং হোয়াইট হাউস ও এয়ার ফোর্স ওয়ানে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ জানান। মিক্সের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রেও ভিন্নমত প্রকাশকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং অভিবাসনসংক্রান্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিবাদের ভাষা স্তব্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত নীতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মিক্স বলেন, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠিত হলে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অন্যায়, অবিচার ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি চান দেশটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক। পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ ও উদ্বেগ
সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহায়তায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কুইন্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার ড. দীলিপ নাথ। বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এ মোমেন এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন।
তাঁরা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হয়রানি এবং মিথ্যা মামলার ঘটনা ঘটছে। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা এবং সরকারের সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা ও চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। তাঁদের মতে, এসব পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশকে সংকটাপন্ন করে তুলেছে।
সভায় বক্তারা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মধ্যবর্তী নির্বাচন আয়োজন এবং কথিত হত্যা মামলায় আটক সাংবাদিকসহ রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির বিষয়ে কংগ্রেসের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে আসা কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্সকে উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান সভার সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া। এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা করতালির মাধ্যমে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।
সমাবেশের মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক, ব্রুকলিনের বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারের সভাপতি আলহাজ আবুল হাশেম, সমাজসংগঠক এনামুল হক শামীম, আমিনুল ইসলাম আমিন এবং নজরুল ইসলাম বাবু। মতবিনিময় সভার কো-হোস্ট ছিল যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ, সন্দ্বীপ পৌরসভা কল্যাণ সমিতি এবং হক মেডিক্যাল অফিস।
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লেখক, কলামিস্ট ও সম্পাদক নঈম নিজাম; বিশ্ববাংলা টোয়েন্টিফোর টিভির সিইও আলিম খান আকাশ; সাংবাদিক সুলতানা রহমান; বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক লাবলু আনসার; সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন সবুজ; জাগো প্রহরীর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ড. মাহাব্বুর রহমান টুকু; শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাসুদুল হাসান; সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সিরাজুল মাওলা; সংগঠনটির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল; সন্দ্বীপ পৌরসভা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. জাফরউল্লাহ; সন্দ্বীপ এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটির সভাপতি মোশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ ও কোষাধ্যক্ষ আহসান উল্লাহ সাকী।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি লিডার মোবাশ্বের হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদির মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসায়ী সরাফ সরকার, সমাজসংগঠক সাখাওয়াত আলী, ব্যবসায়ী ও সমাজসংগঠক ইফজাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, বাউরিয়া জনকল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা আবুল কাশেম, একাত্তর জেনোসাইড ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ কর, কমিউনিটি লিডার আব্দুল জলিল, আফসার মোহাম্মদ, আবু তাহের এম রহমান, ইয়াসিন আরাফাত বাপ্পি, রাজনীতিক বাকের ভূঁইয়া, ডেমোক্র্যাট মোর্শেদ আলম, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী ও ইমদাদ চৌধুরীসহ অনেকে।
উপস্থিত অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন মিঠু। কংগ্রেসম্যানের নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের সমন্বয় করেন নাভার সভাপতি দীপা নাথ ও লিন্ডা র্যাম্পারটেব।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান
সমাপনী বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রিয় মাতৃভূমিকে অপশাসন থেকে মুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করেন।
প্রবাস
১ নভেম্বর লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬-লন্ডন: লন্ডনে আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬, রবিবার অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬। পূর্ব লন্ডনের মেফেয়ার ভেন্যু, রমফোর্ড রোডে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্তোরাঁর হলরুমে আয়োজক কমিটির উদ্যোগে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে উৎসব কমিটির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুহাম্মদ আলী রেজা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেইন, কাউন্সিলর সৈয়দ ফিরোজ গণি, গিয়াস উদ্দিন, অনুপম সাহা, মনির মাহমুদ, সুজন বড়ুয়া, মাসুদুর রহমান, শওকত ওসমান, নাবিল রহমান, সাইফুল ইসলাম, মুহাম্মদ কায়সার ও আলিম উল্লাহ রাহাতসহ আয়োজক ও কমিউনিটির প্রতিনিধিরা।
লিখিত বক্তব্যে আয়োজকরা বলেন, চট্টগ্রাম উৎসব কেবল একটি বার্ষিক সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; এটি চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গৌরব, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রবাসে চট্টগ্রামের মানুষের শেকড় ও চেতনাকে ধারণ ও উদযাপনের একটি সম্মিলিত প্রয়াস। আয়োজকরা জানান, চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও ঐক্য আরও জোরদার করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬ সফল করতে যুক্তরাজ্যের সকল চট্টগ্রামভিত্তিক সংগঠন, কমিউনিটির সর্বস্তরের ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতি আন্তরিক সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা। তারা বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের মাধ্যমে আগামী ১ নভেম্বরের আয়োজনকে একটি নিরাপদ, সর্বজনীন ও স্মরণীয় উৎসবে পরিণত করা সম্ভব হবে। উৎসবে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানসহ দিনব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন থাকবে। আয়োজকরা লন্ডন ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত চট্টগ্রামবাসীসহ সবাইকে পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবে অংশগ্রহণ এবং চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এই মিলনমেলা উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।