রাজনীতি
জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে প্রতিহত করার দাবি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ-নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া পোস্টে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি দল বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে প্রতিহত করে।
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মসূচিতে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজান চৌধুরী, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, জ্যাকসন হাইটস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর কায়সার এবং যুবলীগ নেতা সাগর।
ভিডিওর সঙ্গে প্রকাশিত পোস্টে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকারসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পুলিশ হত্যার ঘটনা, মব সন্ত্রাস, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন, মামলা-হামলা, হত্যা ও নির্যাতন এবং বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও প্রতিবাদকারীদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। পোস্টে ড. ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্র সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পোস্টের বর্ণনা অনুযায়ী, ড. ইউনূস প্রশ্নগুলোর উত্তর না দিয়ে তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সরকার পরিবর্তনের পর দেশে রাজনৈতিক সংস্কার, জবাবদিহি, বিচারব্যবস্থার সংস্কার এবং অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
তবে এ. ইউনূসের ক্ষমতা গ্রহনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা, প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড, গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানি, নির্বিচার আটক এবং যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগও ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক জবাবদিহি ও মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতীতের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের আইনি অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষা করা কতটা সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
২০২৫ সালের ১১ মে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, দলটির বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দলটির নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগও এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ এ নিষেধাজ্ঞাকে অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করে। সিদ্ধান্তটির ফলে দলটির প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৬ সালের বিশ্ব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হাজারো কথিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আটক করা হয়। প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের নেতা, সদস্য ও সমর্থকদের আটক, জামিন পেতে অসুবিধা এবং যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
মানবাধিকার সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে আটক করা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অভিযোগ গণতান্ত্রিক অধিকার ও আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি মামলার তথ্য, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে মব হামলা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেনস্তা এবং সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে জনসমক্ষে অপদস্থ করা, শারীরিকভাবে আক্রমণ করা কিংবা সংঘবদ্ধ চাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়ার প্রবণতা আইনের শাসন ও নাগরিক নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মূল্যায়নে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরও বাংলাদেশে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত ছিল। সংস্থাটি রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা এবং গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে। গোপালগঞ্জের সংঘর্ষের পর আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে বিবেচিত বহু মানুষকে আটক করার বিষয়েও উদ্বেগ জানানো হয়।
এসব ঘটনা দেখায়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও সহিংসতা ও প্রতিহিংসার ঝুঁকি থেকে যায়। একই সঙ্গে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত, পর্যাপ্ত প্রমাণ এবং যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন পরিবর্তন এসেছে। ফলে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের আমলেও রাজনৈতিক অধিকার, গ্রেপ্তার এবং বিরোধী মতের স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ৫ অক্টোবর ২০২৬-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দলের সভা থেকে প্রায় ২৯০ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। তাঁদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গোপন সভায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৭ জনকে আদালত হেফাজতে পাঠানোর তথ্যও তুলে ধরে সংস্থাটি।
মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো স্লোগানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাপক হারে আটক করার ঘটনা নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে। অতীতের সরকারের আমলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার যেমন জরুরি, তেমনি বর্তমান সময়েও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অধিকার সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে জবাবদিহি ও অধিকার রক্ষার দ্বৈত প্রশ্ন। অতীতের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে গিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক হয়রানি, নির্বিচার আটক কিংবা সহিংসতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিরোধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। নিউইয়র্কে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের কর্মসূচি, পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং সংঘর্ষের অভিযোগ প্রবাসী রাজনীতির উত্তেজনাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে ১২ অক্টোবর জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে ঘিরে প্রতিবাদের দাবি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রবাসী আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের ক্ষোভ প্রকাশের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার, বর্তমান অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, রাজনৈতিক সংগঠনের অধিকার এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার নিষ্পত্তি আইনি প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত; রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে সম্মিলিতভাবে দোষী সাব্যস্ত করা কিংবা সহিংসতার শিকার হতে দেওয়া উচিত নয়।
https://www.youtube.com/shorts/wTAVoRKPnY4
বাংলাদেশ
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন আইনি বিষয়: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি রাজনৈতিক নয়, বরং একটি আইনি বিষয় বলে জানিয়েছে ভারত। বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশের পাঠানো নথিপত্র এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “প্রত্যর্পণের বিষয়টি একটি আইনি বিষয়। এর সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া জড়িত।”
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান হলো, সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তবে বুধবারের ব্রিফিংয়ে জয়সওয়াল শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো ঘোষণা দেননি।
এর আগে গত জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেছিলেন, দেশে ফিরে তাকে গ্রেপ্তার করা বা এমনকি হত্যা করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকলেও তিনি দেশে ফিরতে চান।
শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যের পর ভারতও জানিয়েছিল, তার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মোকাবিলা করা হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তার প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছে।
এদিকে বুধবারের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গেও জয়সওয়াল বলেন, ভারতের লক্ষ্য বাংলাদেশের সঙ্গে “ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী” সম্পর্ক বজায় রাখা এবং জনগণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া।
প্রবাস
ভার্জিনিয়ায় বাইটপোর অ্যাপ্রিসিয়েশন পার্টি-ভার্জিনিয়া: চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তুলে ধরার উদ্যোগ এবং সফল আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মী, স্পনসর ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সম্মানে ভার্জিনিয়ার উডব্রিজে অ্যাপ্রিসিয়েশন পার্টির আয়োজন করেছে বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন (বাইটপো)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিফ। বাইটপোর নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের পাশাপাশি মেজবান কমিটির সদস্য, স্পনসর এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা এতে অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিফ সফলভাবে মেজবান আয়োজনের জন্য বাইটপোর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতে আরও সুন্দর ও বৃহৎ পরিসরে মেজবান আয়োজনের ক্ষেত্রে সংগঠনটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
বাইটপোর পক্ষ থেকে ড. ফয়জুল ইসলাম বলেন, গত ২৩ আগস্ট ডিএমভি এলাকায় স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ মেজবান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান সংগীত পরিবেশন করেন। তিনি মেজবান আয়োজনের বিভিন্ন দিক ও সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। ড. ফয়জুল ইসলাম বলেন, বড় ধরনের একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গেলে নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে যারা একটি আয়োজন সফল করেন, তাদের পরিশ্রম ও ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরা প্রয়োজন। এতে আয়োজকেরা ভবিষ্যতে আরও ভালো অনুষ্ঠান আয়োজন করতে উৎসাহিত হবেন।
বাইটপোর সভাপতি সামছুদ্দীন মাহমুদ মেজবান সফল করতে সহযোগিতার জন্য সকল ডোনার, স্পনসর, শুভাকাঙ্ক্ষী, মেজবান কমিটির সদস্য, বাইটপোর নেতৃবৃন্দ ও সদস্য এবং অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথিদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি লোকসমাগম এবং নিবন্ধন ছাড়াই বিপুলসংখ্যক অতিথির উপস্থিতির কারণে খাবার ব্যবস্থাপনায় কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত সময়ের পরও কিছু অতিথি খাবার না পাওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
আগামী মেজবান আরও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনার কথাও জানান বাইটপোর সভাপতি। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মেজবানে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হবে। এ বছর যারা নিবন্ধন করেছেন, তাদের আগামী বছরের আয়োজনে বিনামূল্যে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হবে। খাবার বিতরণ আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খল করতে চারটি পৃথক লাইন চালুর পাশাপাশি খাবার পরিবহনের সক্ষমতা তিন গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ভেন্যু প্রাপ্যতা সাপেক্ষে আগামী আগস্টে ‘মেজবান ২০২৭’ আয়োজনের ঘোষণাও দেন সামছুদ্দীন মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে মেজবান আয়োজনের আয়-ব্যয়ের হিসাবও উপস্থিত সবার সামনে তুলে ধরেন বাইটপোর সভাপতি। আগামী মেজবানে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সামছুদ্দীন মাহমুদ বলেন, পরবর্তী আয়োজনের প্রস্তুতি এমনভাবে নেওয়া হবে, যাতে কোনো অতিথিকে খাবার না খেয়ে ফিরে যেতে না হয়। অনুষ্ঠানে বাইটপোর সহসভাপতি সাইফুল্লাহ খালেদ, ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর স্যাম রিয়াসহ সংগঠনের আরও কয়েকজন বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা ও স্মৃতিচারণের পাশাপাশি অ্যাপ্রিসিয়েশন পার্টিতে ছিল চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবারের আয়োজন। মেজবানি স্টাইলে গরুর মাংসসহ বিভিন্ন পদ রান্নার দায়িত্বে ছিলেন হাসান ও স্যাম রিয়া। বারবিকিউ প্রস্তুতের দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ কোরেশী। আড্ডা, স্মৃতিচারণ ও মেজবানি খাবারের মধ্য দিয়ে বাইটপোর সদস্য, স্পনসর, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং মেজবান আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের এই মিলনমেলা শেষ হয়।