NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬ | ৭ কার্তিক ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চাওয়া সেই আঁখির পাশে প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে ট্রাম্পসহ বিদেশি নেতাদের বক্তব্য ‘অগ্রহণযোগ্য’: ম্যাখোঁ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কেন বিতর্কে মেটা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সিঁদুর খেলায় মেতেছেন শাওন দ্বিতীয় মেয়ের নাম প্রকাশ করলেন দীপিকা-রণবীর তিন বিভাগে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের জন্য ৮০০ কোটি ডলার জ্বালানি সহায়তার ঘোষণা ট্রাম্পের সহিংস বিক্ষোভে টালমাটাল ফ্রান্স, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল পুলিশ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে থাকতে পারে ভিএআর, উন্নত প্রযুক্তির বল ‘চিরকুট’ সিনেমায় মেহেদী-ঐশীর ‘রঙ্গিলা আসমান’
Logo

Mujibur Rahman

mujibur
রুশ তেলবাহী জাহাজে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের, কমল তেলের দাম-লন্ডন: রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু তেলবাহী জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পরিবহনের ব্যয় কমার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। রয়টার্সের বাজারতথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৭টা ২৯ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ২.২৮ ডলার বা ২.২ শতাংশ কমে ১০৩.৭৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১.৩৪ ডলার বা ১.৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩.৭৫ ডলারে দাঁড়ায়। রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর কিছু জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের আলোচনার পর তেলের বাজারে এ দরপতন দেখা যায়। এসব জাহাজ প্রচলিত আন্তর্জাতিক শিপিং ব্যবস্থার বাইরে তেল ও জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত হয় এবং এর কিছু জাহাজ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পদক্ষেপ কার্যকর হলে জাহাজ ভাড়া কমতে পারে এবং ডিজেলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনে নমনীয়তা বাড়তে পারে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়ার ডিজেল জ্বালানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নিয়েছেন। নতুন করে জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিলের বিষয়টিও সেই প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। হরমুজ প্রণালির কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং ইরান ও ইয়েমেনের হুথিদের ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামুদ্রিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য ধরনের প্রক্ষেপণের আঘাতে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের কাছে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে গেছে। এদিকে, ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা পুনরায় শুরু করেছে। রাশিয়ার রিয়াজান অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ১ কোটি ১১ লাখ ব্যারেল কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক মজুত প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষা ছিল। বিশ্লেষকদের কাছে তেলের বাজার এখন দুটি বিপরীত পরিস্থিতির মুখোমুখি—একদিকে জ্বালানি পরিবহনে ব্যয় কমার সম্ভাবনা, অন্যদিকে সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি। যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলে জ্বালানি পরিবহন ও বাজারদরে প্রভাব পড়তে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে পদক্ষেপটির পরিধি ও বাস্তবায়নের ওপর। Article
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৫.৬৫ শতাংশ-ঢাকা — যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) রপ্তানিতে আগস্ট মাসে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আগস্টে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এক মাসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (EPB) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৮১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে। গত অর্থবছরের একই মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬৫০ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে মোট ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে ৮০৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাসিক গড় রপ্তানি ছিল প্রায় ৬৪৫ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার। তবে প্রথম দুই মাসের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির পেছনে আগস্টের উল্লেখযোগ্য রপ্তানি বৃদ্ধি বড় ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধান পোশাক রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪ দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। বাকি প্রায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার এসেছে অন্যান্য পণ্য থেকে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের অ-পোশাক রপ্তানির মধ্যে রয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, প্লাস্টিক ও মেলামাইন পণ্য, ওষুধ, জুতা, টেক্সটাইল ও সুতা এবং হালকা প্রকৌশল পণ্য। আরও প্রবৃদ্ধির সুযোগ দেখছেন রপ্তানিকারকরা শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন বাড়াতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (FBCCI) প্রশাসক ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, শীতকালীন পোশাকের অর্ডার দেওয়ার সময়সীমা আগস্টে শেষ হওয়ায় ওই মাসে রপ্তানি বৃদ্ধিতে এর প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা রয়েছে। আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ভালো অর্ডার পাওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি। ফজলুল হক বলেন, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো গেলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি কয়েক গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (BKMEA) নির্বাহী সভাপতি ও ফাতুল্লাহ অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামীম এহসান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর কিছু সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ও নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) মাহমুদউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা উৎসাহব্যঞ্জক। তার মতে, আগামী ১২ মাসেও এই প্রবৃদ্ধির গতি অব্যাহত থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরও প্রবৃদ্ধির জন্য পণ্যের বৈচিত্র্য, উচ্চমূল্য সংযোজন এবং পণ্যের মান উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। পোশাকের বাইরে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ তৈরি পোশাকের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে চামড়া, পাট, হোম টেক্সটাইল, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ, প্লাস্টিক এবং হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ মোট প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে, যা দেশটির একক বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। চলতি অর্থবছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেশটির বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে। Article