NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬ | ৭ কার্তিক ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চাওয়া সেই আঁখির পাশে প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে ট্রাম্পসহ বিদেশি নেতাদের বক্তব্য ‘অগ্রহণযোগ্য’: ম্যাখোঁ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কেন বিতর্কে মেটা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সিঁদুর খেলায় মেতেছেন শাওন দ্বিতীয় মেয়ের নাম প্রকাশ করলেন দীপিকা-রণবীর তিন বিভাগে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের জন্য ৮০০ কোটি ডলার জ্বালানি সহায়তার ঘোষণা ট্রাম্পের সহিংস বিক্ষোভে টালমাটাল ফ্রান্স, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল পুলিশ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে থাকতে পারে ভিএআর, উন্নত প্রযুক্তির বল ‘চিরকুট’ সিনেমায় মেহেদী-ঐশীর ‘রঙ্গিলা আসমান’
Logo

International Desk

international
বর্ণবৈষম্য অবসানের প্রতিশ্রুতি পূরণ থেকে বিশ্ব এখনো অনেক দূরে: আইরিন খান-নিউইয়র্ক: বর্ণবৈষম্য অবসানে ২৫ বছর আগে বিশ্ব যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণ থেকে এখনো অনেক দূরে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান। সোমবার জাতিসংঘে ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার (ডিডিপিএ) ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত খান বলেন, ২৫ বছর আগে ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনায় সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করা হয়েছিল-জাতি, বর্ণ, বংশপরিচয় কিংবা জাতীয় বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। কিন্তু সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন থেকে বিশ্ব এখনো অনেক দূরে। এ সময় তিনি ডিডিপিএর পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়নে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূত খান দাসপ্রথা, ঔপনিবেশিকতা ও অন্যান্য ঐতিহাসিক অবিচার থেকে সৃষ্ট কাঠামোগত বৈষম্য মোকাবিলায় ন্যায়বিচার, শিক্ষা, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিবাসী, শরণার্থী, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু, নারী, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা মানুষের অধিকার সুরক্ষা জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন । কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত খান বলেন, নতুন প্রযুক্তিকে ঘৃণা ও সহিংসতায় উসকানি ছড়ানোর পরিবর্তে টেকসই উন্নয়নের কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশে মানবাধিকার, সমতা ও বৈষম্যহীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে অনলাইন ও অফলাইন-উভয় ক্ষেত্রেই সব মানুষের বৈচিত্র্য ও মর্যাদা সমুন্নত থাকবে।”   Article
জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগ, যা জানা যাচ্ছে নিয়োগ ও দায়িত্ব সম্পর্কে-নিউইয়র্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দপ্তরে আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। জাতিসংঘের সভাপতির দপ্তরের প্রকাশিত কর্মী তালিকায় তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আইন কর্মকর্তা এবং নির্বাহী দপ্তরের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে বর্তমানে ৪০ জন কর্মকর্তা ও কর্মী রয়েছেন এবং তাঁরা ২৯টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। জাইমা রহমান ছাড়াও ওই দপ্তরে বাংলাদেশের আরও পাঁচজন কর্মকর্তা রয়েছেন। জাতিসংঘের প্রকাশিত কর্মী তালিকায় জাইমা রহমানের পদটি পি-৩ পর্যায়ের এবং এটি জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট থেকে অর্থায়িত আটটি পদের একটি। একই তালিকায় তাঁকে নির্বাহী দপ্তরের আইন কর্মকর্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে সদস্যরাষ্ট্র থেকে সাময়িকভাবে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের আলাদা শ্রেণিতে দেখানো হয়েছে। জাতিসংঘের সভাপতির দপ্তরের জীবনীতে বলা হয়েছে, জাইমা রহমান যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে আইন ও নীতিবিষয়ক কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ব্যারিস্টার। তিনি লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও রাজনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেছেন। বাংলাদেশেও আইন পেশায় কাজের জন্য তিনি যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন বলে জাতিসংঘের জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে আবাসন, কল্যাণ ও কর্মসংস্থান আইন এবং বাংলাদেশে সাংবিধানিক, করপোরেট ও বাণিজ্যিক আইন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ও করসংক্রান্ত কাজ রয়েছে। সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষা আইন নিয়েও তিনি বিনামূল্যের আইনি কাজে যুক্ত ছিলেন বলে জাতিসংঘের জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। জাইমা রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে। তাঁর নিয়োগের খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-কে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক বলেছেন, জাইমা রহমানের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিদ্যমান নিয়ম ও নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ২ জুন ২০২৬ নির্বাচিত হন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জাইমা রহমানের নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য জাতিসংঘের কর্মী তালিকায় তাঁর পদ, দায়িত্বের ক্ষেত্র এবং অর্থায়নের ধরন উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে তাঁকে নিয়োগের জন্য কে মনোনয়ন দিয়েছেন, নির্বাচন বা বাছাইয়ের নির্দিষ্ট ধাপ কী ছিল কিংবা সিদ্ধান্তটি কোন কর্তৃপক্ষ নিয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এ কারণে তাঁর নিয়োগ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগসংক্রান্ত নথি বা জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন। বর্তমানে প্রকাশ্য তথ্য থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, জাইমা রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে পি-৩ পর্যায়ের আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁর পদটি নিয়মিত জাতিসংঘ বাজেটের অর্থায়নে পরিচালিত। Article
জাতিসংঘে খালিলুর রহমানের দায়িত্ব, বেতন ও ভাতা-নিউইয়র্ক: জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান। তাঁর নিউইয়র্ক অবস্থান ও দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবাসন, দৈনিক ভাতা, সরকারি যানবাহন এবং অন্যান্য ব্যয়ের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালিলুর রহমানের নিউইয়র্কের আবাসনের জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাসে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়িভাড়া অনুমোদন করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যানহাটনে তাঁর জন্য একটি বাসা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির সরকারি বাসাভাড়া মাসে ১২ হাজার ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সরকারি আদেশে খালিলুর রহমানের নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের ওই আদেশে তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়কাল ৩১ আগস্ট থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নিউইয়র্কে তাঁর সরকারি স্থানীয় যাতায়াতের জন্য একটি মার্সিডিজ-বেঞ্জ গাড়ির ব্যবস্থার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গাড়িটি তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের একজন পূর্ণ মন্ত্রীর বিদেশে সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দৈনিক ভাতা ৪২০ মার্কিন ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খালিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বিদেশে সরকারি দায়িত্ব পালন করায় এই হারে দৈনিক ভাতা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আট মাসের হিসাব ধরে তাঁর দৈনিক ভাতা প্রায় ১ লাখ ৮০০ ডলার হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। তবে এই অঙ্কটি ৪২০ ডলার দৈনিক ধরে করা হিসাব; এটি সরকারি অর্থপ্রদানের চূড়ান্ত হিসাব হিসেবে আলাদাভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। জাতিসংঘের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতি জাতিসংঘের কর্মচারী নন এবং তিনি জাতিসংঘ থেকে কোনো বেতন পান না। খালিলুর রহমান ২ জুন ২০২৬ জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর অর্থ হলো, সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে থাকার জন্য খালিলুর রহমান জাতিসংঘের কাছ থেকে কোনো নিয়মিত বেতন পান না। তাঁর মূল সরকারি বেতন বাংলাদেশের সরকারের কাছ থেকেই আসে। তাঁর নিউইয়র্কের অন্যান্য ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থের উৎস একক নয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর সরকারি বেতন, বিদেশে দায়িত্ব পালনের দৈনিক ভাতা এবং প্রতিবেদনে উল্লেখিত আবাসন ও সরকারি যানবাহনের ব্যয় বহন করা হচ্ছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তর পরিচালনার জন্য জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়মিত বাজেটের পাশাপাশি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর অনুদানে একটি তহবিল রয়েছে। জাতিসংঘের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের তহবিলে ১০টি দেশ মোট ১২ লাখ ৮৮ হাজার ২৩৭ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুত অর্থ ২ লাখ ডলার। এই তহবিল সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও পরামর্শ, ভ্রমণ এবং অধিবেশনের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হয়। তবে বাংলাদেশের ২ লাখ ডলারের এই অবদানকে খালিলুর রহমানের ব্যক্তিগত বেতন, বাসাভাড়া বা দৈনিক ভাতা হিসেবে দেখানো হয়নি। সাধারণ পরিষদের সভাপতির সরকারি ভ্রমণের অর্থায়নের ক্ষেত্রেও জাতিসংঘের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশ ভ্রমণের ব্যয় বহন করতে পারে, আবার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের নিয়মিত বাজেট থেকেও ব্যয় করা হতে পারে। ফলে খালিলুর রহমানের প্রতিটি সরকারি ভ্রমণের অর্থ বাংলাদেশ সরকারই দিয়েছে বা সব ভ্রমণের অর্থ জাতিসংঘ দিয়েছে—এমন সাধারণীকরণ করা যায় না। জাতিসংঘের ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে মোট ৪০ জন কর্মকর্তা ও কর্মী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট থেকে অর্থ পান, কেউ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা থেকে সাময়িকভাবে নিয়োজিত এবং কেউ সদস্যরাষ্ট্রের মাধ্যমে নিয়োজিত হয়েছেন। সভাপতির দপ্তরের নিজস্ব তহবিল থেকেও কয়েকজনের ব্যয় বহন করা হচ্ছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে খালিলুর রহমানকে সহায়তা করতে ছয়জন বাংলাদেশি কর্মকর্তা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এসেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বেতন, বিদেশে অবস্থানকালীন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশের সরকারি কাঠামোর অধীনে থাকার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে খালিলুর রহমানের নিউইয়র্কের দায়িত্ব পালনের ব্যয়কে পুরোপুরি জাতিসংঘের অর্থ বা পুরোপুরি বাংলাদেশের অর্থ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর সরকারি বেতন এবং বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত আবাসন, দৈনিক ভাতা ও যানবাহনের ব্যয় বাংলাদেশের সরকারি অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর অবদানে পরিচালিত হচ্ছে। জাতিসংঘের নিশ্চিত তথ্য অনুযায়ী, খালিলুর রহমান জাতিসংঘের বেতনভোগী কর্মচারী নন; তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ৮১তম সাধারণ পরিষদের নির্বাচিত সভাপতি। অন্যদিকে, মাসে ২০ হাজার ডলারের বাসাভাড়া, দৈনিক ৪২০ ডলারের ভাতা এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ গাড়ির তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথির ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এসব ব্যয়ের মূল সরকারি নথি প্রকাশ্যে যাচাই করা গেলে তাঁর নিউইয়র্ক অবস্থানের মোট সরকারি ব্যয় এবং প্রতিটি খাতে অর্থের সুনির্দিষ্ট উৎস আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।   Article
মক্কার কাছে হুথি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি সৌদি আরবের-রিয়াদ — পবিত্র নগরী মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ইয়েমেনের হুথিদের উৎক্ষেপণ করা একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনবিষয়ক জোট জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ধ্বংস করে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি মক্কার দক্ষিণে প্রতিহত করা হয়। ড্রোনটি পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয় বলে তিনি জানান। ঘটনার পর মক্কা ও সৌদি আরবের অন্যান্য এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। আল-মালিকি বলেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও সেখানে অবস্থানরত মুসল্লি ও ওমরাহ পালনকারীদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের দ্বিতীয় হামলার প্রচেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালে মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছিল বলে সৌদি পক্ষ উল্লেখ করেছে। তবে হুথিরা মক্কা বা কোনো ইসলামী পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিরা সৌদি ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করলেও মক্কাকে লক্ষ্য করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। মক্কা ইসলামের পবিত্রতম নগরী এবং এখানেই অবস্থিত মসজিদুল হারাম ও পবিত্র কাবা। সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির মধ্যেই মক্কার কাছে ড্রোন প্রতিহতের এই ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। Article
বাঁধনের খোঁজ নিতে বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী- ইতালিতে হামলার শিকার হয়ে দেশে ফেরার পর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবির।  মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন বাঁধন নিজেই।   কিছুদিন আগে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গিয়েছিলেন বাঁধন। দেশটির মেস্ত্রে শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ করেন এই অভিনেত্রী। অনাকাঙ্ক্ষিত সেই ঘটনার পর সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফেরেন বাঁধন। দেশে ফিরে তিনি জানান, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের সহকর্মীদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি।   এর এক দিন পরই বাঁধন জানান, তার ও পরিবারের খোঁজ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বাসায় উপস্থিত হয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবির। ফেসবুক পোস্টে বাঁধন লিখেছেন, ‘আজ আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিতে আমাদের বাসায় এসেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবির সাহেব। তাঁর এই আন্তরিকতা, সৌজন্য এবং দায়িত্বশীলতার জন্য আমি গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ।’ এরপর অভিনেত্রী আরো লিখেন, ‘এই কঠিন সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেমন আশ্বস্ত করেছে, তেমনি একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আমার আস্থাকেও আরো দৃঢ় করেছে। আমি বিশ্বাস করি, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জনগণ। আর সেই জনগণের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র যখন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তখন নাগরিকের আস্থার জায়গাটি আরো শক্তিশালী হয়।’   যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাঁধন লিখেন, ইতালিতে সাম্প্রতিক কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার, মাননীয় সরকারপ্রধান, বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালীয় সরকার ও পুলিশ বিভাগ এবং দেশে-বিদেশে যাঁরা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং মানবিক সহায়তা ও সমর্থন দিয়েছেন—আমি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। অভিনেত্রীর কথায়, এই অভিজ্ঞতা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে অন্যায়, ভয় ও বিভাজনের বিরুদ্ধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য, সাহস এবং মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ। মতের পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একজন নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কোনো আপস হতে পারে না।   উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার মেস্ত্রে শহরে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বাঁধনকে, যার ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা করেন অভিনেত্রী।  বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে, যেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ হামলাকে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেন। Article
সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি হুতিদের, ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র-দুবাই: ইয়েমেনে লড়াই তীব্র হওয়ার মধ্যে সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। রোববার হুতিরা দাবি করে, সৌদি আরবের শারুরাহ এলাকায় একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। হুতিরা আরও সতর্ক করে বলেছে, সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখলে তারা আরও হামলা চালাবে। ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর লড়াই নতুন করে তীব্র হওয়ার মধ্যেই সর্বশেষ এই হামলার দাবি করা হলো। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় হুতিদের অগ্রসর হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরব বিমান হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীও হুতিদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে। এই সংঘাতের ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে। বাব আল-মান্দেব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই পথে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হুতিদের কথিত হামলার দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। Article
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কি সত্যিই আর ১৪ দিন চলার মতো তেল আছে?- সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে আর মাত্র ১৪ দিনের তেল গচ্ছিত রয়েছে। এমন দাবি ঘিরে শোরগোল শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে।     দাবির পক্ষে একটি সরল হিসাব দেখানো হচ্ছে, দেশটির স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে (এসপিআর) রয়েছে ২৮৬.৬ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং তারা দৈনিক ব্যবহার করে প্রায় ২০.৭ মিলিয়ন ব্যারেল। একটিকে অন্যটি দিয়ে ভাগ করলে ফল পাওয়া যায় ‘১৪ দিন’!  দাবিটি সোজাসাপ্টা মনে হলেও আদতে এই গাণিতিক হিসাব মারাত্মক ভুল ও বিভ্রান্তিকর। তবে এই ভাইরালের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের একটি সত্যিকারের বড় উদ্বেগের চিত্র। ভুল হিসাবটি মূলত দুটি ভিন্ন জিনিসকে গুলিয়ে ফেলেছে। প্রথমত, এসপিআর হলো কেবল সরকারের আপৎকালীন জরুরি মজুদ। কিন্তু আমেরিকা প্রতিদিন যে ২০.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ব্যবহার করে, তা পরিশোধিত জ্বালানি, যার মধ্যে পেট্রল, ডিজেল ও জেট ফুয়েল রয়েছে।    দ্বিতীয়ত, এই দাবি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত উৎপাদনকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। বিষয়টি এমন এক হিসাবের মতো দাঁড়ায়, যেন একটি পরিবার প্রতিদিন বাজারে কতটুকু কেনাকাটা করছে বা রান্না করছে তা না গুনে, কেবল ঘরে মজুদ থাকা খাবার দেখে বলে দেওয়া হলো—‘তাদের খাবার শেষ হতে আর ১৪ দিন বাকি!’ বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্র কেবল জরুরি মজুদের ওপর ভর করে চলে না। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশটি দৈনিক গড়ে ১৩.৯ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিজেই উৎপাদন করে। এছাড়া বাণিজ্যিক মজুদে আরো প্রায় ৪২৪.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল গচ্ছিত রয়েছে। প্রতিদিন তাদের রিফাইনারিগুলোতে প্রায় ১৭.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল শোধন করা হয় এবং এর বাইরে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি ও রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। অর্থাৎ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই তেলশূন্য হয়ে পড়ছে না।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের তেল হঠাৎ ফুরিয়ে না গেলেও আসল উদ্বেগ হলো, মার্কিন আপৎকালীন জ্বালানি সুরক্ষার ‘বীমা’ এখন স্মরণকালের সবচেয়ে কম। ১৯৭৩-৭৪ সালের আরব তেল অবরোধের ধাক্কার পর ১৯৭৫ সালে এই এসপিআর গঠন করে মার্কিন কংগ্রেস। মেক্সিকো উপসাগরের বিশাল ভূগর্ভস্থ টানেলে রাখা এই রিজার্ভের ধারণক্ষমতা প্রায় ৭১৪ মিলিয়ন ব্যারেল। ২০২০ সালেও যেখানে দেশটির জরুরি মজুদ ছিল ৬৩৮ মিলিয়ন ব্যারেল, ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে তা ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে মাত্র ২৮৬.৬ মিলিয়ন ব্যারেলে ঠেকেছে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণেই মূলত এই জরুরি তহবিল খালি হয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে বাইডেন প্রশাসন এসপিআর থেকে রেকর্ড ১৮০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ে। এতে জ্বালানির দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও জরুরি মজুদ বড় ধাক্কা খায়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংকট এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ট্রাম্প প্রশাসন এসপিআর থেকে আরও ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়। ফলে গত এপ্রিলে ৪১৩.৩ মিলিয়ন ব্যারেলে থাকা মজুদ মাত্র চার মাসের ব্যবধানে ১২৭ মিলিয়ন ব্যারেল কমে ২৮৬.৬ মিলিয়নে নেমে আসে।  আজ যদি নতুন কোনো আন্তর্জাতিক যুদ্ধ, সমুদ্র অবরোধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তবে ওয়াশিংটনের হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার মতো পর্যাপ্ত ‘রসদ’ বা ‘অস্ত্র’ অবশিষ্ট নেই। জরুরি রিজার্ভ থেকে প্রতিদিন এভাবে তেল ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে সম্ভব নয়। আবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু-হু করে লাফিয়ে বাড়তে পারে। এ ছাড়া বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী গৃহীত এই তেল ভবিষ্যতে চড়া দামে কিনে আবার সরকারি গুদামে ভরতে হবে, যা মার্কিন অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ তৈরি করবে। Article