প্রবাস
নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে বাংলাদেশ ডে ও বাংলা নববর্ষ উদযাপিত-নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনীর ক্যাপিটাল হিলে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করা হলো বাংলাদেশ ডে ও বাংলা নববর্ষ বরণ। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সেখানে বাংলাদেশীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। নববর্ষ উপলক্ষে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল শুভেচ্ছা জানান। এছাড়াও স্টেট সিনেটদের বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। বাংলা গানের সাথে সাথে অনেকেই নেচেছেন। চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল নিউইয়র্ক সিনেটে বাংলাদেশের বাংলা বছরের প্রথম দিনটিকে বাংলা নববর্ষ ডে হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। সেই সাথে সাথে এই দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতি বছর উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই অংশ হিসাবে এবারে উদযাপন করা হলো। এখন থেকে প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ ডে উদযাপন করা হবে।
২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি, সংস্কৃতি এই সব তুলে ধরা হয়। সেখানে বেশ কয়েকজন স্টেট সিনেটর উপস্থিত ছিলেন। এই সময়ে ক্যাপিটাল হিলের ভেতরে বাংলাদেশের দুই শতাধিক মানুষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। ক্যাপিটাল হিলে নিউইয়র্ক স্টেট গভর্নর হাউজে ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের স্বীকৃতিস্বরূপ জে২৩৪ নম্বর রেজুলেশনে গ্রহণ করা হলো সোমবার ২৮ এপ্রিল । বলা যায়, বাংলা নববর্ষ উদযাপনে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট এদিন উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল, বাংলা গান ও নাচের সঙ্গে পাঁচ জন সিনেটরের নাচ ও গানের ভঙ্গিমা সত্যিই বাঙালি সংস্কৃতির জন্য ছিল অভিনব। এর আগে বিদেশিদের মধ্যে এ ধরনের মুখরিত হয়ে ওঠার দৃশ্য দেখা যায়নি। আসলে ২৮ এপ্রিল বিশ্বসভায় বাংলাদেশ ও বাঙালির জয়গান নতুন মাত্রায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সিনেটর সেপুলভেদা সকলকে স্বাগত জানান। দুই শতাধিক বাঙালি ও আমেরিকানদের অংশগ্রহণে মিলন মেলায় পরিণত হয় বাংলা নববর্ষ উদযাপন। সিনেটর সেপুলভেদা তার বক্তব্যে নিউইয়র্ক প্রবাসী বাঙালিদের অবদান তুলে ধরে বাংলা নববর্ষকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের অন্যতম উৎসব হিসেবে চিহ্নিত করেন। সিনেটর ফার্নান্দেজ এবং অন্যান্য সিনেটর এসময় উপস্থিত ছিলেন। বাঙালিদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইডের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বিশ্বজিত সাহা, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ড. নজরুল ইসলাম এবং শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিউইয়র্কের ক্যাপিটল হিলে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে ছিলেন মুক্তধারা ও এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের নেতৃবৃন্দ। এছড়াও তাদের শিল্পী বৃন্দ। এছাড়াও কম্যুনিটির লিডারদের অনেকেই সেখানে যোগ দেন ও অনুষ্ঠানটি সফল করে তুলেন। সকলেই বিশ্বায়নের যুগে বাংলা সংস্কৃতির জয়গান করেন এবং সিনেটরদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে কথা বলেন। বিশ্ববাঙালির কাছে এই উদযাপন স্মৃতিচিহ্ন হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন রথীন্দ্রনাথ রায়।
নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে ১৪ এপ্রিলকে বাংলা নববর্ষ ডে হিসাবে অফিসিয়ালী স্বীকৃতি দেয়ার পেছনে যার বেশি অবদান তিনি হলেন বিশ্বজিত সাহা। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে ১৪ এপ্রিলকে বাংলা নববর্ষ ডে হিসাবে অফিসিয়ালী স্বীকৃতির একটি রেজ্যুলেশন পাস করা হয়। সেই রেজ্যুলেশন পাস করার পর এবার প্রথমবারের মতো আলবেনীতে ক্যাপিটল হিলে নববর্ষ উদযাপন করা হয়। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছেন নিউইয়র্ক এর গভর্নর ক্যাথি হোকুল, সিনেটর সুপেলভেদা এবং অন্যান্য সিনেটররা। তারাই ১৪ এপ্রিল নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে বাংলা নববর্ষ ডে হিসাবে পাস করেন।
বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, এবার প্রথমবার এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো। এখানে প্রায় তিন’শ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আমরা নিউইয়র্কের ক্যাপিটল হিলে এমন একটি অনুষ্ঠান করতে পেরেছি। এটা অবশ্যই সকল প্রবাসী বাংলাদেশীর জন্য আনন্দের। আমরা আমাদের অনুষ্ঠান কেমন হয়েছে এটা বলতে চাই না এটা বলবেন অন্যান্যরা সবাই।
এরমধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সংগঠন ও কম্যুনিটির নেতৃবৃন্দ, শিল্পীও ছিলেন। বাংলাদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিল্পকে সেখানে তুলে ধরার সুযোগ ছিল সেটাই কাজে লাগানো হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে সিনেটর ফার্নান্দেজের পৃষ্ঠপোষকতায় মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে শুরু হয় সমাবেশ কক্ষ এর পর্ব। সেখানে বিশ্বজিত সাহা, ড. নজরুল ইসলাম, রথীন্দ্রনাথ রায়, সংগীত পরিচালক মহিতোষ তালুকদার তাপস এবং শিল্পী লুতফুন নাহার লতার উপস্থিতিতে রেজুলেশনটি পাস করা হয়।
বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, এবার প্রথম অনষ্ঠানটি ৭ এপ্রিল হওয়ার কথা ছিল। এরপর সেটি হয়নি। দিন পিছিয়েছে। এই কারণে এবার ২৮ এপ্রিল হলো তবে আগামীতে প্রতি বছর এই দিনটি উদযাপিত হবে। সেটি হবে ১৪ এপ্রিল। বিকেলে সিনেট কক্ষে পাসকৃত রেজুলেশনটি পাঠ এবং সেপুলভেদাসহ সিনেটরদের মন্তব্য ও আলোচনা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আনন্দঘন পরিবেশ সৃজন করে। বিশেষত টাইমস স্কয়ারে নববর্ষ উদযাপন কমিটির শিল্পীবৃন্দ মহিতোষ তাপসের নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। একক ফোক সংগীত পরিবেশনা করেন শাহীন হোসেন অন্যান্য শিল্পীরা। নৃত্য পরিবেশনা করেন ভাষা সাহা। এই প্রথম বাংলা নববর্ষ আন্তর্জাতিক বিশ্বে সরকারিভাবে উদযাপন করা হলো।
বাংলাদেশ
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের বৈঠক : পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ-সব নাগরিকের অধিকার সুরক্ষায় সাংবিধানিক নিশ্চয়তা বজায় রাখা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের অটল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুল খালেক।
২৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের বৈঠকে তিনি এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সচিব আব্দুল খালেক তার বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে ফোরামকে অবহিত করেছেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রচলিত ভূমি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার উপরও আলোচনা করেন, যা মূলত ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ন্ত্রণের বিধান অনুসারে পরিচালিত হয়।
তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জীবিকা, খেলাধুলা ইত্যাদি ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য সরকারের অব্যাহত আর্থিক সহায়তা এবং বরাদ্দের উপরও জোর দেন। বাংলাদেশের বিবৃতিতে জাতিগত সম্প্রদায় ও সম্প্রদায়ের অনন্য স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ঐতিহ্য রক্ষা এবং প্রচারের জন্য বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
‘বহুপাক্ষিক ও আঞ্চলিক ব্যবস্থা জুড়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাজ এবং অংশগ্রহণের অর্থায়ন’ শীর্ষক বিষয়ভিত্তিক সংলাপে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বহুপাক্ষিক ও আঞ্চলিক ব্যবস্থায় তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণের গুরুত্ব স্বীকার করে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত অনুশীলন এবং পদ্ধতিগুলোকে সম্মান করার গুরুত্বও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল জোর দেয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলটিতে ভূমি মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল এবং সমতল ভূমি উভয়ের জাতিগত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল থেকে জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের বৈঠক শুরু হয়েছে। এই বৈঠক শেষ হবে আগামী ২ মে।
প্রবাস
নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত-বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিউইয়র্ক বুধবার (২৬ মার্চ) যথাযথ মর্যাদায় ও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস দিবস উদযাপন করেছে। জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ৭১’-এর শহিদ, শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ বুদ্ধিজীবী ও ২০২৪ জুলাই-আগস্টের শহিদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার বাণী পড়া হয়।
অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল মো. নাজমুল হুদা মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং বীরাঙ্গনা, রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সব স্তরের নেতা-কর্মীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও আন্তরিকভাবে সচেষ্ট থাকতে হবে।’
নাজমুল হুদা বলেন, ‘২০২৪ সাল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সংযোজন করেছে এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা মেরামত তথা সংস্কারের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে।’
কনসাল জেনারেল স্বাধীনতার কাঙ্খিত লক্ষ্য তথা একটি গণতান্ত্রিক ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, ন্যয্যতাভিত্তিক, মানবিক ও আধুনিক দেশ গড়ার জন্য সকলকে সচেষ্ট থাকার অনুরোধ জানান।
বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি গতিশীল, আত্মপ্রত্যয়ী ও উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের নতুন প্রজন্ম যে স্বপ্ন দেখছে, তা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা পৃথিবীতে অবস্থানকারী আমাদের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ভাই-বোনদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি তাদের এ সমর্থন এবং সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করার অনুরোধ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে ৭১-এর সব শহিদ, শহিদ বুদ্ধিজীবী, শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ২৪’-এর জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
বাংলাদেশ
বিশিস্ট সাংবাদিক মনির হায়দারের জন্য ফুলেল শুভেচ্ছা-জনাব মনির হায়দার অন্যতম রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবং নাগরিক অধিকার কর্মী হিসেবে দেশে এবং প্রবাসে অত্যন্ত সুপরিচিত তিনি। জনাব মনির হায়দার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে জাতীয় ঐক্যমত গঠনের লক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শক্তির সংগে লিয়াজোঁ এবং যোগাযোগ রক্ষায় ভুমিকা পালন করবেন বলে জানা গেছে। নিউ ইয়র্ক প্রবাসী জনার মনির হায়দারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন এবং নতুন দায়িত্বের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করলেন প্রবাসের অন্যতম বিশিস্ট ব্যবসায়ী এবং সাপ্তাহিক আজকাল পত্রিকার কর্নধার জনাব শাহ নেওয়াজ, বিশিস্ট সাংবাদিক ও ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক সংবাদদাতা জনাব আকবর হায়দার কিরন , খ্যাতনামা ফটো সাংবাদিক ও বাংলাভিশন নর্থ আমেরিকার বিশেষ প্রতিনিধি জনাব নিহার সিদ্দিকী, মুলধারার বিশিস্ট আইনজীবী রাজু মহাজন এবং সাংবাদিক আবিদ রহমান সহ আরও অনেকে। জনাব শাহনেওয়াজ তার প্রশংসা করে আশা প্রকাশ করে বলেন, জনাব মনির হায়দার এর মতো অত্যন্ত সাহসী এবং সজ্জন ব্যাক্তি অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের ভালো কাজের জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন । জনাব আকবর হায়দার কিরন বলেন , আপনি দেশের জন্য ভালোবেসে প্রবাস ত্যাগ করছেন এবং দেশের জন্য ভালো কাজ করবেন এটা আমাদের প্রত্যাশা । উল্লেখ করা যেতে পারে, বিশিস্ট সাংবাদিক ও লেখক মনিজা রহমানের স্বামী এবং মনন ও সৃজনের বাবা জনাব মনির হায়দার সহসা ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে । বিশিস্ট সাংবাদিক মনির হায়দারের জন্য ফুলেল শুভেচ্ছা সাহসী সাংবাদিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্তমান সময়ের তুখোড় বিশ্লেষক জনাব মনির হায়দার অন্যতম। রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবং নাগরিক অধিকার কর্মী হিসেবে দেশে এবং প্রবাসে অত্যন্ত সুপরিচিত তিনি। জনাব মনির হায়দার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন।তিনি প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে জাতীয় ঐক্যমত গঠনের লক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শক্তির সংগে লিয়াজোঁ এবং যোগাযোগ রক্ষায় ভুমিকা পালন করবেন বলে জানা গেছে।নিউ ইয়র্ক প্রবাসী জনার মনির হায়দারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন এবং নতুন দায়িত্বের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করলেন প্রবাসের অন্যতম বিশিস্ট ব্যবসায়ী এবং সাপ্তাহিক আজকাল পত্রিকার কর্নধার জনাব শাহ নেওয়াজ, বিশিস্ট সাংবাদিক ও ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক সংবাদদাতা জনাব আকবর হায়দার কিরন , খ্যাতনামা ফটো সাংবাদিক ও বাংলাভিশন নর্থ আমেরিকার বিশেষ প্রতিনিধি জনাব নিহার সিদ্দিকী, মুলধারার বিশিস্ট আইনজীবী রাজু মহাজন এবং সাংবাদিক আবিদ রহমান সহ আরও অনেকে। জনাব শাহনেওয়াজ তার প্রশংসা করে আশা প্রকাশ করে বলেন, জনাব মনির হায়দার এর মতো অত্যন্ত সাহসী এবং সজ্জন ব্যাক্তি অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের ভালো কাজের জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন । জনাব আকবর হায়দার কিরন বলেন , আপনি দেশের জন্য ভালোবেসে প্রবাস ত্যাগ করছেন এবং দেশের জন্য ভালো কাজ করবেন এটা আমাদের প্রত্যাশা । উল্লেখ করা যেতে পারে, বিশিস্ট সাংবাদিক ও লেখক মনিজা রহমানের স্বামী এবং মনন ও সৃজনের বাবা জনাব মনির হায়দার সহসা ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রবাস
নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হল ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’-
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নিজেদের অবস্থানকে জানান দিতে ১৩ এপ্রিল রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে হয়ে গেল ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’।জ্যাকসন হাইটসের ব্যস্ততম রাস্তা বন্ধ করে ৬৫ প্রবাসী সংগঠনের হাজার হাজার সদস্য বাংলাদেশ স্ট্রিটের পাশ দিয়ে প্যারেড নিয়ে যায় ৮৭ স্ট্রিটে। লাল-সবুজের পতাকার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা হাতে নিয়ে তরুণ-তরুণীরা নেচে-গেয়ে আর বিজয় ধ্বনিতে গোটা এলাকা প্রকম্পিত করেন। সকাল ১১টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত থমকে ছিল কুইন্সের এলাকাটি। ভিনদেশিরা বাঙালিদের প্যারেডকে অভিবাদন জানান। সেখানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সিটি মেয়র এরিক এডামস, স্টেট সিনেটর জন ল্যু, স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান জোহরান মামদানি। ‘হিউম্যানিটি এম্পাওয়ারমেন্ট রাইটস ফাউন্ডেশন’র সহযোগিতায় এ প্যারেড আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’।
সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম বলেন, 'প্যারেডের সফলতার সকল কৃতিত্ব প্রবাসীদের। তাদের সর্বাত্মক সহায়তায় আমরা অভিভূত।' এ সময় ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার দীলিপ নাথ বলেন, 'আমি খুবই গর্বিত ও আনন্দিত। দ্বিতীয় বারের মতো জ্যাকসন হাইটসে প্যারেড করতে পারলাম।আশা করব, আগামীতে সকল ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক সচেতন সকলকে নিয়ে এই প্যারেডটিকে আরও বড় করে আয়োজন করা যাবে-সেটিই আশাদের আশা।'
প্যারেডে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি আবু তাহের বলেন, 'আমরা চট্টগ্রাম সমিতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সোসাইটিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি সকলকে নিয়ে চমৎকার একটি প্যারেড উপহার দেওয়ার জন্যে। আশা রাখি, আগামী বছর আরো বড় আয়োজনে প্যারেড করব, ইনশাআল্লাহ।' প্যারেড কমিটির সদস্য সচিব হিউম্যানিটি এম্পাওয়ারমেন্ট রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ফাহাদ সোলায়মান বলেন, '৬৫ সংগঠনের ৩ হাজারের বেশি লোক এসেছেন। ইউনিভাসিটি, স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ শিশুরাও এসেছে। আমাদের বাঙালি কালচার প্রবাস প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্যারেডের গুরুত্ব অপরিসীম।'
প্রবাস
বর্ণিল আয়োজনে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার ও জ্যাকসন হাইটসে বাংলা বর্ষবরণ-
বাংলা ১৪৩২ বঙ্গাব্দ বৃহৎ বিস্ময় নিয়ে আবিভুর্ত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম নগরী নিউইয়র্কের বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের অত্যন্ত আকাঙ্খার টাইমস স্কোয়ার শনিবার বৃষ্টিস্নাত ১২ এপ্রিল পরিণত হয়েছিল একখন্ড বাংলাদেশে। বিশ্ববাসীকে জানান দিল বাঙালিদের জীবনেও রং আছে, আছে আনন্দ আর আপন সংস্কৃতির প্রতি নিঁখাদ ভালোবাসা। পরের দিন রবিবার ১৩ এপ্রিল জ্যাকসন হাইটসে হাজার হাজার মানুষের জমায়েত হয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে করে তুলেছিল নীল আকাশে সাদা মেঘের পেখম তুলে ধাবমান বলাকার প্রাণিত আলোকশিখা।
প্রথমদিনে টাইমস স্কোয়ারে সহস্র বাঙালি একত্রিত হয়ে সুরে-সঙ্গীতে-নৃত্যে পালন করেছে তাদের প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। ওইদিন বাঙালির প্রাণের উৎসবে উপস্থিত ছিলেন থাইল্যান্ড, নেপাল, ভুটানের কনসাল জেনারেলবৃন্দ। একইসঙ্গে বহু দেশ ও জাতির মানুষ উপস্থিত থেকে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব পালন করেন, যা রূপ নেয় আন্র্জাতিকতায়।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের বাইরে বাংলা বর্ষবরণকে গীরে বিশ্বব্যাপী বাঙালিদের বৃহত্তম সমাবেশ হয় নিউইয়র্ক শহরেই। গত দুই বছরের মতো এবারও দু’দিনের অনুষ্ঠানের প্রথম দিনটি অর্থাৎ ১২ এপ্রিল টাইমস স্কয়ারে এবং ১৩ এপ্রিল জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় পালিত হয় বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উৎসব। এবারের উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছিল ‘ছায়ানটে’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ও সংস্কৃতি-সাধক সদ্য প্রয়াত প্রফেসর ড.সানজীদা খাতুনকে।
বিশ্ববাঙালির আয়োজনে দুই দিনব্যাপি এ অনুষ্ঠানে ছিল গান-নৃত্য, মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বৈশাখী মেলা। যেখানে শতকণ্ঠে শিশুরা গান গেয়ে এবং সহস্রকণ্ঠে বড়দের সুর এবং গানে বরণ করে নেওয়া হয় বাংলা বছরের প্রথম দিনটিকে। আয়োজক সংগঠনের প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের মহড়া ও নিবিড় অনুশীলনের মধ্য দিয়ে প্রস্তুত করা হয় সকলকে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল মহীতোষ তালুকদার তাপসের নেতৃত্বে ‘সহস্র কণ্ঠে বর্ষবরণ’। ১০০০-এরও বেশি শিল্পী একসঙ্গে মিলিত হয়ে স¤প্রীতি, আনন্দ এবং মাতৃভ‚মির প্রতি ভালবাসার গান গেয়েছেন নিউইয়র্কের মাটিতে। এছাড়াও, এই বছর একটি বিশেষ অনুষ্ঠান ছিল ‘হাজার বছরের বাংলা গানের গল্প’। কল্লোল বসুর পরিকল্পনায় এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অঞ্চলের ১০০ জন শিল্পী হাজার বছর ধরে বিস্তৃত এবং বহুবিধ সাংস্কৃতিক প্রভাবে প্রভাবিত বাংলা গানের ৩২টি ধারাকে তুলে ধরেন। পরিবেশনায় ছিল-ডায়াস্পোরা ইনক, কল্লোল, মৈত্রী, সিংগিং বার্ডস, সৃষ্টি একাডেমি, অনুপ দাস ডান্স একাডেমি প্রভৃতি। নৃত্যে ছিলেন- চন্দ্রা ব্যানার্জি ও স¤প্রদায়। এছাড়া, তাজলি, কৃষ্ণা তিথি, রেশমি প্রতীক, শাহ মাহবুব এবং মণিপুরি নৃত্যে জগন্নাথ ও স¤প্রদায় সংযুক্ত পরিবেশনায় মুখরিত ছিল টাইমস স্কয়ার। বলাবাহুল্য, কণ্ঠশিল্পী মহীতোষ তালুকদার তাপসের নেতৃত্বে শত কণ্ঠ থেকে সহস্রকণ্ঠের এই বর্ষবরণ বাঙালি সংস্কৃতির পালকে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর সঙ্গে খ্যাতিমান রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা’র সুরেরধারা যুক্ত হয় উৎসবের সঙ্গে। বর্ষবরণ উৎসবে একইরকম শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরে নারী-পুরুষের বর্ণিল পরিবেশনায় বাংলার জয় ঘোষণা করা হয়েছে।
১৪৩২ বঙ্গাব্দের বর্ষবরণের বিশেষত্ব হলো বহুমাত্রিকতা। সহস্রকণ্ঠের পরিবেশনায় ছিল নতুনত্ব; সঙ্গে নিউইয়র্ক রাজ্যসরকারের ক্যালেন্ডারে ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের স্বীকৃতি এবং এশিয়ার কৃষিপ্রধান নয়টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকার কনসাল জেনারেল ও তাদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নিঃসন্দেহে বৈচিত্র্য এনেছে প্রবাসী বাঙালিদের সর্ববৃহৎ এই আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে।
নিউইয়র্ক টাইমস স্কয়ারে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বিকেল পাঁচটার পর ঘটে উৎসাহব্যঞ্জক ও স্মরণীয় ঘটনা। এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড-এর পক্ষ থেকে দু’জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কারে ভ‚ষিত করা হয়। এরা হলেন-বিশিষ্ট পন্ডিত, বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং সমাজসেবী ড. পরিতোষ এম. চক্রবর্তী এবং অপরজন ডা. মুহাম্মদ এস. চৌধুরী, এমডি যিনি মানব সেবা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের ক্ষমতায়নে নিবেদিতপ্রাণ। ব্যতিক্রমী এই পুরস্কার নববর্ষ উৎসবকে ভিন্ন মাত্রা প্রদান করেছে।
নিউইয়র্ক টাইমস স্কয়ারে বর্ষবরণ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে। দৃশ্যত বাস্তবতা হলো, ২০২৫ সালে এসেই উৎসবটি আন্তর্জাতিক মহিমা অর্জন করেছে। বলাবাহুল্য, বাংলা বর্ষবরণের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এ বছরের উদযাপনকে অনেক বেশি তাৎপর্যমন্ডিত করেছে; পরিণত হয়েছে বৈশ্বিক উৎসবে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ষ্টেটে ১৪ এপ্রিলকে বাংলা নববর্ষের স্বীকৃতি দিয়ে অঙ্গরাজ্যের রাজধানী আলবেনিতে গভর্নর অফিস বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় এই উৎসবকে ২৮ এপ্রিল উদযাপন করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিউইয়র্কে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের অনুরোধে সিনেটর লুইস সেপুলভেদার ১৫ জানুয়ারি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে অঙ্গরাজ্যের আইনসভার অধিবেশনে ২০২৫-এর ২২ জানুয়ারি আইনপ্রণেতারা সর্বসম্মতিক্রমে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। রেজুলেশনে উল্লেখ করা হয়, ১৪ এপ্রিল, অর্থাৎ বাংলা বছরের প্রথম মাসের প্রথম দিন পয়লা বৈশাখকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বাংলা নববর্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। এই অঙ্গরাজ্যের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের স্বীকৃতি হিসেবে এবং এই রাজ্যে বসবাসরত বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে স¤প্রীতি দৃঢ় করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। টাইমস স্কয়ারে রেজুলেশনটি (১২ এপ্রিল ) পাঠ করে শ্রোতৃমÐলীকে শোনানো হয়। বলাবাহুল্য, অভিবাসী জীবনের লড়াইটা কেবল অন্ন সংস্থানের জন্য নয় বরং বাঙালি জাতির যা কিছু অহংকারের সামগ্রী তা সামনে নিয়ে এগিয়ে চলার লড়াইও। এই লড়াই নিজেদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার নিরন্তর সংগ্রামে উদ্দীপিত। আর এই আনন্দ উজ্জীবনের স্বাক্ষর রয়ে গেল ১৪৩২ বঙ্গাব্দের নববর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে। আয়োজক এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড টিকে থাকুক বাঙালির রক্ষাকবচ হিসেবে।
উদ্যোক্তাদের দাবি, ১৩ এপ্রিল কেবল জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় প্রায় ১০ হাজার বাঙালি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। আয়োজকদের কথায়, এই উদযাপনের ম‚ল উদ্দেশ্য বৃহত্তর প্রবাসী স¤প্রদায়ের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতির প্রকৃত বার্তা পৌঁছে দেওয়া। মুক্তধারা এবং এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড সভাপতি বিশ্বজিত সাহার কথায়, “এই উৎসব বিশ্ব বাঙালির ঐক্য ও ভাষার প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ।”
আমেরিকা
নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ারে নতুন বছর বরণ-ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাত স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের প্রতিটি দেশ নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অনুযায়ী ২০২৫ সালকে স্বাগত জানাচ্ছে। বর্ণিল আতশবাজি, আলোকসজ্জা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে মানুষ নতুন বছরের আগমনে মেতে উঠেছে।নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বিখ্যাত বল ড্রপ ইভেন্ট বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। হাজারো মানুষ একত্রিত হয়ে নতুন বছরের কাউন্টডাউন উদযাপন করে। পাশাপাশি, কনসার্ট, প্যারেড এবং পারিবারিক আয়োজনে দেশব্যাপী নববর্ষের উৎসব চলে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারেও লাখ লাখ মানুষ বরণ করে নিয়েছে খ্রিস্টীয় নতুন বছরকে। আলোয় আলোয় বর্ণিল টাইম স্কয়ার যেন আরও রঙিন হয়ে ওঠে এ সময়। ভৌগলিক অবস্থানে সবচেয়ে পশ্চিমের দেশ হওয়ায় সবশেষে নতুন বছরকে বরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১২টা বাজতেই টাইম স্কয়ারে ওয়াটার ফোর্ড ক্রিস্টাল বল ফেলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়।নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে দেখা যায় চোখ ধাঁধানো আতশবাজি। এ সময় আলো ঝলমলে টাইম স্কয়ার যেন আরও বর্ণিল হয়ে ওঠে।
বর্ষবরণের এই উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন এক লাখেরও বেশি মানুষ। টাইম স্কয়ারে নতুন বছর উদযাপন করতে বিদেশি পর্যটকরাও ভিড় জমায়। পর্যটকরা বলেন, মানুষ খুব কম সময়ই পায় আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য। আমরা চাই, সবাই আনন্দের সঙ্গে নতুন বছরকে বরণ করে নিক। বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুন ভালোবাসার বার্তা। এ বছর আমরা মানবতার কথা বলব। এছাড়া গত বছরের মতো জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিরসনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও থাকবে।
টাইমস স্কয়ার এলাকাটি এমনিতেই রঙ-বেরঙয়ের বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জ্বার কারণে সুখ্যাত। নববর্ষের আমেজে বাড়তি সাজসজ্জায় বেড়েছে সৌন্দর্যের মাত্রা। এছাড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর।এর আগে প্রথম দেশ হিসেবে নতুন বছরকে বরণ করে নিউজিল্যান্ড। এরপর একে একে অস্ট্রেলিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, দুবাই, থাইল্যান্ড, জার্মান, যুক্তরাজ্যের আকাশও আতশবাজির আলোয় বর্ণিল হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার বিষয়ক রেজুলেশন গৃহীত-জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রথমবারের মতো ‘মিয়ানমারের পরিস্থিতি’ বিষয়ক একটি রেজুলেশন গৃহীত হয়েছে। মিয়ানমারের বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জরুরি অবস্থা, বন্দিদের মুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে রেজুলেশন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় বুধবার (২১ ডিসেম্বর) জাতিসংঘে ভোটাভুটির মাধ্যমে রেজুলেশনটি গৃহীত হয়।
রেজুলেশনের ওপর ভোট আহ্বান করা হলে তা ১২-০ ভোটে অনুমোদিত হয়। ভোটাভুটি পর্বে এই প্রস্তাবনার বিপক্ষে কোনো সদস্য ভোট অথবা ভেটো দেননি। তবে চীন, ভারত ও রাশিয়া ভোটদানে বিরত ছিল। ভোটদান শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, মেক্সিকো, গ্যাবন এবং নরওয়ে তাদের বক্তব্যে রেজুলেশনে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি অন্তর্ভুক্তি করার প্রশংসা করে এবং এই সমস্যা সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের জোরালো ভূমিকার দাবি জানায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার বক্তব্যে রেজুলেশনটি উত্থাপন করার জন্য যুক্তরাজ্যকে ধন্যবাদ জানায়। স্থায়ী মিশন বলছে, এটি রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানের প্রতি জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর অঙ্গটির শক্তিশালী সমর্থনেরই বহিঃপ্রকাশ। রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটসহ অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে গৃহীত রেজুলেশনটি রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আরও সুসংহত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।
এই প্রস্তাবনা অনুমোদিত হওয়ার ফলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদের নিয়মিত কার্যকলাপের অংশ হয়ে গেল। একইসঙ্গে এটি রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশের অব্যাহত প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী ও ত্বরান্বিত করবে বলে প্রত্যাশা স্থায়ী মিশনের। রেজুলেশনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয়, নিরাপত্তা ও মানবিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করা হয়। পরিষদ রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তাদের নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবসনের নিমিত্ত্ব অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানায়।
মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা যে রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ বাসভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলবে, সে বিষয়টি দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হয়। এছাড়া এ সমস্যার সমাধানে আসিয়ানের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ২০২১ সালে গৃহীত পাঁচ দফা ঐক্যমত্যের দ্রুত ও পূর্ণবাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং এর বাস্তবায়নে জাতিসংঘের কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হবে কি না সে বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব এবং মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতকে আগামী ১৫ মার্চ ২০২৩ তারিখের মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রতিবেদন পেশ করার জন্য অনুরোধ করা হয়।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন রেজুলেশনটিতে বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত নিরাপত্তা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী ও অস্থায়ী বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যাতে রেজুল্যুশনে অন্তর্ভুক্ত হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রেজুলেশনের পেন হোল্ডার (মূল স্পন্সর) পরিষদের অন্যতম স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য। বিগত তিনমাস ধরে এ বিষয়ে নেগোশিয়েশন শেষে বুধবার এটি নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত হয়। নিরাপত্তা পরিষদের ডিসেম্বর ২০২২ এর সভাপতি ভারত এবং তাদের সভাপতি থাকাকালীন সময়েই রেজুল্যুশনটি নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত হলো। এর ফলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টায় সফল হলো বাংলাদেশ।