বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় এখনো কাটেনি আতঙ্ক। মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় গত ১৮ অক্টোবর তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুই বন্দুকধারী।
খবর প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১০ এএম

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় এখনো কাটেনি আতঙ্ক। মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় গত ১৮ অক্টোবর তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুই বন্দুকধারী।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীদের কাছে টাইগার জানিয়েছেন, ভয়াবহ ওই ঘটনার ধাক্কা এখনো সামলে উঠতে পারেননি তিনি।
হামলার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরো বলেন, ‘কারও সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই... তাহলে আমাকে আক্রমণ করা হলো কেন?’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় এখনো পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি দেননি টাইগার।
যেভাবে গুলি চালানো হয়
গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় ফুটবল খেলে ফেরার পথে হামলার শিকার হন টাইগার।
এ ঘটনায় টাইগার অক্ষত থাকলেও তার গাড়িচালক ও এক ভ্লগার আহত হন। হামলার পর আহত চালককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন অভিনেতা।
পুলিশের তদন্তে দুই বন্দুকধারী হিসেবে ফুল সিং ও রেহান রহিসুদ্দিন আনসারির নাম উঠে এসেছে। দুজনেরই বয়স ১৮ বছর এবং তারা হরিয়ানার বাসিন্দা বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। হামলার পর বিহারের বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী হৃতিক কুমার, ওরফে রোশন, তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, হামলার পর তিনজন মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। পরে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা মোটরসাইকেলটি আন্ধেরিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্তরা গুজরাটের সুরাট হয়ে ট্রেনে জয়পুরের দিকে যায় বলে জানা গেছে। পরে রাজস্থানের কোটা জেলা থেকে তাদের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সুরাটে উদ্ধার অস্ত্র
তদন্তে নতুন অগ্রগতি হিসেবে সুরাট থেকে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে মুম্বাই পুলিশ। পাশাপাশি শনিবার ইন্দোর থেকে প্রাঞ্জল থাকরান নামে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে আটক করা হয়।
অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার রাজেশ দানদিয়াওয়ার তথ্য অনুযায়ী, মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা ও স্থানীয় পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রাঞ্জলকে আটক করা হয়। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই ঘটনায় আটক ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১।
সংবাদমাধ্যমের খবর দেখে পালানোর পথ বদল?
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রের দাবি, হামলাকারীদের পেছনে থাকা কয়েকজন নির্দেশদাতা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত খবরের মাধ্যমে পুলিশের তৎপরতা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পেয়ে তারা হামলাকারীদের কাছে তা পৌঁছে দিতেন বলে অভিযোগ। এর ফলে হামলার পর পালানোর পথ পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছিল অভিযুক্তরা বলে ধারণা তদন্তকারীদের।