Shibbir Ahmed প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

কূটনৈতিক ডেস্কঃ ঢাকা-ইসলামাবাদ-বেইজিং ঘনিষ্ঠতা বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তাঁর আশঙ্কা, পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা এবং দেশে ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থান বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশ যদি পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি কৌশলগত অক্ষের দিকে এগিয়ে যায়, তাহলে দেশের উপর নানা ধরনের ভূ-রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। এর ফলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, সীমান্তে উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কূটনৈতিক জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মোমেন আরও বলেন, বাংলাদেশে উগ্রপন্থী ও জিহাদি শক্তির উত্থান এখন একটি বাস্তব উদ্বেগ। তাঁর দাবি, ধর্মীয় উগ্রতা বাড়লে দেশের সামাজিক সংহতি দুর্বল হতে পারে এবং দীর্ঘদিনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশে উগ্রপন্থী শক্তির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ঘটনা ও জনতার হাতে নৃশংসতার ঘটনাকে তিনি দেশের সামাজিক পরিবেশের অবনতির লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মোমেন একই সঙ্গে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনকালকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়, দারিদ্র্য কমে এবং বিদ্যুৎ, শিক্ষা, নারীর কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাঁর সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল নীতি ছিল—সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর আশঙ্কা, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ সেই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান থেকে সরে গেলে দেশের অর্থনীতি, কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার উপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।