NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬ | ৭ কার্তিক ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চাওয়া সেই আঁখির পাশে প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে ট্রাম্পসহ বিদেশি নেতাদের বক্তব্য ‘অগ্রহণযোগ্য’: ম্যাখোঁ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কেন বিতর্কে মেটা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সিঁদুর খেলায় মেতেছেন শাওন দ্বিতীয় মেয়ের নাম প্রকাশ করলেন দীপিকা-রণবীর তিন বিভাগে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের জন্য ৮০০ কোটি ডলার জ্বালানি সহায়তার ঘোষণা ট্রাম্পের সহিংস বিক্ষোভে টালমাটাল ফ্রান্স, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল পুলিশ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে থাকতে পারে ভিএআর, উন্নত প্রযুক্তির বল ‘চিরকুট’ সিনেমায় মেহেদী-ঐশীর ‘রঙ্গিলা আসমান’
Logo
logo

জাহাজেই কাটল ৩১ বাংলাদেশি নাবিকের ঈদ


খবর   প্রকাশিত:  ২৮ মে, ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

জাহাজেই কাটল ৩১ বাংলাদেশি নাবিকের ঈদ

ঈদ মানে আনন্দ। সেই আনন্দের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত পারস্য উপসাগরের বুকে ভাসছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকরা।

ঈদুল ফিতরের ঈদও তাদের কেটেছে বাইরে। তাদের আশা ছিল কোরবানির ঈদ পরিবারের সঙ্গে কাটাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ইরানের অনুমতি না মেলায় এবার ঈদুল আজহার নামাজও তাদের আদায় করতে হলো জাহাজের মধ্যে।

 

​বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় যখন জাহাজের নেভিগেশন ব্রিজে ঈদের জামাত শুরু হয়, তখন সবার মনেই ছিল এক চাপা কষ্ট।

জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম খানের পেছনে লাইনে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক। মোনাজাতে দেশের জন্য, পরিবারের জন্য প্রার্থনার পাশাপাশি ছিল একটাই আকুতি—‘কবে ফিরব ঘরে?’

 

​গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। এর পরের দিনই মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ। হরমুজ প্রণালির ভূ-রাজনৈতিক বেড়াজালে আটকে পড়ে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।

 

​গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর বিধি-নিষেধের কারণে এখনো অবরুদ্ধ আমাদের নাবিকেরা। অথচ এই সময়ে অন্যান্য অনেক দেশের জাহাজ ইরানের সবুজসংকেত নিয়ে পার পেয়ে গেছে। বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং নাবিকদের কয়েক দফার চেষ্টা সত্ত্বেও মেলেনি পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার ছাড়পত্র।

​ঈদের সুস্বাদু খাবার আর কোলাকুলি সাময়িকভাবে নাবিকদের মুখে হাসি ফোটালেও, বুকের ভেতর জমে থাকা মেঘ কাটেনি। লোনা জলের এই বন্দিদশা কত দিন চলবে, তা জানা নেই কারো।

 

​ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলামের কণ্ঠেও সেই অনিশ্চয়তার সুর, কবে নাগাদ হরমুজ পার হতে পারব, এখনো জানি না। টানা তিন মাস ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির শিকার হয়ে সাগরে ভাসতে থাকা এই ৩১ জন মানুষ এখন কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা গুনছেন। ঘরে ফেরার একেকটি দিন যেন তাদের কাছে একেকটি যুগের সমান। স্বজনদের কাছে ফেরার অপেক্ষায় তারা।