NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী ‘ইরানি হামলার’ জেরে জরুরি বৈঠকে বসছে আরব লিগ ট্রাম্পের হুমকির পরপরই পাল্টা সতর্কবার্তা দিল ইরান ‘রোনালদোর চোট ধারণার চেয়েও গুরুতর’ তৃষার সঙ্গে ম্যাচিং পোশাকে বিয়েবাড়িতে বিজয়, ফের আদালতে স্ত্রী রবিবার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি যুদ্ধের মধ্যে প্রথম জুমায় খামেনির জন্য ইরানিদের শোক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমান ও আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ফোনালাপ আকাশসীমা আংশিক চালু, সীমিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে এমিরেটস ইরানে হামলা না করার সিদ্ধান্তে অটল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
Logo
logo

তরুণদের হাতে নতুন দেশ তুলে দিতে চাই, জাতির উদ্দেশে ভাষণে ডা. শফিকুর রহমান


খবর   প্রকাশিত:  ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০২ এএম

তরুণদের হাতে নতুন দেশ তুলে দিতে চাই, জাতির উদ্দেশে ভাষণে ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা তরুণদের হাত ধরতে চাই। এই তরুণরা প্রযুক্তি বোঝে এবং সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে জানে। তারাই পারবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে। তাদের হাতে নতুন দেশ তুলে দিতে চাই।

বাংলাদেশ টেলিভিশনে গতকাল জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

 

জামায়াত আমির বলেন, জুলাইয়ের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার কাজে সঙ্গী হতে চাই। প্রচলিত ধারা বদলাতে চাই। দেশটা বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকুক, মানুষের জীবনে শান্তি ফিরুক।

এই আমাদের চাওয়া। সবাইকে নিয়ে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই। এমন বাংলাদেশ যেখানে কেবল পারিবারিক পরিচয়ে কেউ দেশের চালকের আসনে বসতে পারবে না। এমন বাংলাদেশ যেখানে রাষ্ট্র হবে সবার, সরকার হবে জনগণের।

 

গণভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণ চায় নিরাপত্তা, সুশাসন, ইনসাফ। বাংলাদেশকে এসব অঙ্গীকার আর মূল্যবোধের আলোকে সাজাতে চাই। রাষ্ট্রের মৌলিক কিছু সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু তা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এই বাস্তবায়ন সম্ভব হবে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে।

সংস্কার প্রক্রিয়া পূর্ণতা পাবে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা এমন দেশ চাই যেখানে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর হিম্মত সবার থাকে না। এই হিম্মত আবরার ফাহাদ, আবু সাইদ, মুগ্ধ, ওসমান হাদি ও তাদের সহযোদ্ধারা দেখিয়েছে। এই দেশ সময়ের সাহসী সন্তানদের হাতে তুলে দিতে চাই। তারাই এ দেশের ভবিষ্যৎ রচনা করবে।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের শাসক শ্রেণি সরকারি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজেদের দেশের মালিক দাবি করেছে। ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, পদ-পদবি-নীতি-প্রতিষ্ঠান, সবকিছু ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ হাসিলের উপায় হিসাবে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করেছে। ফলে চুরি, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রতারিত করে জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে। উন্নয়ন প্রকল্প ব্যক্তিগত ও দলীয় লুণ্ঠনের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই ব্যবস্থার অবসান ঘটানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। অতীতে জামায়াতে ইসলামীর থেকে যারা জনপ্রতিনিধি হিসাবে সংসদ, সরকার ও স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব পালন করেছে তারা কেউই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়নি। তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। আপনারা দেশের মানুষ আপনারাই তার সাক্ষী। 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে সমাজ নারীর মর্যাদা রক্ষা করতে পারে না, সেই সমাজ কখনো সমৃদ্ধ হতে পারে না। আমরা ক্ষমতায় এলে নারীরা কেবল ঘরের ভিতরে নয়, সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে থাকবেন সগৌরবে। করপোরেট জগৎ থেকে রাজনীতি- সবখানে তাঁদের মেধার মূল্যায়ন হবে কোনো বৈষম্য ছাড়াই। আমরা এমন এক দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যেখানে কোনো মা বা বোনকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না। আপনাদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আমাদের সঙ্গী হোন। একটি উন্নত ও আধুনিক দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে আমাদের নির্বাচিত করুন।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি সমাজে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবাইকে মর্যাদা দিতে হবে এবং সবার মানবাধিকার সুরক্ষা দিতে হবে। সব পরিচয় নির্বিশেষে আমরা এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি যে একটি মানবিক-উন্নত দেশ গড়ার জন্য দলমতনির্বিশেষে সবার মান-ইজ্জত-অধিকারের সুরক্ষা দেব। এই দেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার। কেউ ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে বাস করবে না। যদি কেউ ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আঘাত করার চেষ্টা করে, আমরা অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তা প্রতিরোধ করব। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে দেশকে আগানো সম্ভব নয়। সুতরাং অর্থনীতিতে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টরে এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক যেসব খাত রয়েছে সে জায়গাগুলোতে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে আমাদের হাত দিতে হবে।