NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬ | ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ জাতিসংঘে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও সময়োপযোগী জাতিসংঘ পুলিশ গঠনের আহ্বান পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ একটি জাতীয় আন্দোলন : প্রধানমন্ত্রী আজ রাতেই ইরানে কঠোর হামলার হুমকি ট্রাম্পের মেজাজ হারিয়ে দলীয় কর্মীদের পেটালেন মমতা বেন স্টোকসের বিদায়ী বার্তা ফাঁস, ইংল্যান্ডকে কাঠগড়ায় তুলল আইসিসি অপু বিশ্বাস কি আবার বিয়ে করেছেন? নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ : ডা. জুবাইদা রহমান ছবি পোস্ট করে মেলোনিকে আবার খোঁচা ট্রাম্পের
Logo
logo

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন, অপেক্ষা সরকারের সিদ্ধান্তের


খবর   প্রকাশিত:  ১১ জানুয়ারী, ২০২৫, ১০:২৪ পিএম

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন, অপেক্ষা সরকারের সিদ্ধান্তের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি হিসাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ বেশ কিছু কাজ ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন শুধু সরকারের সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার অপেক্ষা। যে কোনো সময় জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কমিশনের কর্মকর্তাদের আগাম প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। 

 

 

এ ছাড়া ভোটার তালিকার বিদ্যমান ত্রুটি দূর করে ও ভোটারযোগ্য সব নাগরিককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভার্চুয়াল সভায় এ নির্দেশনা দেন তিনি। এ ছাড়া ভার্চুয়াল সভার এই লিখিত নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।

 

সূত্র জানিয়েছে, সিইসি সভায় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, 'একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়াই নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অমূল্য অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে।

আপনারা ভালো নির্বাচনও দেখেছেন, খারাপ নির্বাচনও দেখেছেন। ভালোর অভিজ্ঞতাকে গ্রহণ করবেন। খারাপ অভিজ্ঞতাকে পরিহার করবেন। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করে নির্বাচন কমিশনের আস্থার সংকট দূর করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনকে শ্রদ্ধার আসনে বসাতে কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কমিশনের কর্মকর্তাদের কর্মকান্ডের মাধ্যমে তা সম্ভব হবে। যে কোনো সময় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কমিশনের কর্মকর্তাদের আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।'

 

 

 

সিইসি বলেন, 'ভোটার তালিকার বিদ্যমান ত্রুটি দূর করে ও ভোটারযোগ্য সব নাগরিককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য। এ জন্য সবাইকে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।' 

সিইসির এমন নির্দেশনার পরপরই ভোটার তালিকা হালনাগাদে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়।

ভোটার তালিকার খসড়াও প্রকাশ করা হয়েছে গত ২ জানুয়ারি। এ ছাড়া খসড়া ভোটার তালিকার ভুলভ্রান্তি বা দাবি আপত্তি থাকলে ১৭ জানুয়ারির মধ্যে তা সংশোধনে আবেদন করতে পারবেন নাগরিকরা। ইসি নাগরিকদের দাবি আপত্তিগুলোর নিষ্পত্তি করবে ৩০ জানুয়ারির মধ্যে। আর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ২ মার্চ।

 

একই সঙ্গে আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী ১৪ দিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে যাদের জন্ম ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে, তাদের তথ্য নেবে সংস্থাটি। বাড়ি বাড়ি ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী নির্দেশনা জারি করেছেন। 

 

 

মাঠ কর্মকর্তাদের দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ ও সুপারভাইজার কর্তৃক যাচাই কার্যক্রম ২০ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী ২ সপ্তাহ পর্যন্ত বা শুরুর তারিখের পরবর্তী ২ সপ্তাহ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সম্পন্ন করা হবে। তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারযোগ্য ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ এবং মৃত ভোটারদের ভোটার তালিকা হতে কর্তনের তথ্যাদি সংগ্রহ করা হবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। 

নিবন্ধন কেন্দ্রে নিবন্ধন (বায়োমেট্রিক গ্রহণসহ) সম্পন্ন করা হবে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে। 

আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ; সীমানা পুনর্নির্ধারণ, নির্বাচন প্রস্তুতি, ভোট কেন্দ্র স্থাপন, ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত ও তদারকি কমিটির প্রধান আনোয়ারুল ইসলাম সরকার; প্রশাসনিক সংস্কার এবং পুনর্বিন্যাস ও দক্ষতা উন্নয়ন সংক্রান্ত কমিটির প্রধান তাহমিদা আহমদ এবং এবং জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা তথ্য প্রযুক্তি প্রয়োগ কমিটির প্রধান আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে। সেই অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন।

জানা গেছে, সংস্কার কমিশনগুলোর প্রতিবেদন দেখে নির্বাচনি সংস্কারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে নির্বাচনি আইন প্রণয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কমিটি। নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিমূলক কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে তৈরি হচ্ছে নির্বাচনি রোডম্যাপ। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে এবং পরের কার্যক্রমের ধারাবাহিক বর্ণনা থাকছে এই কর্মপরিকল্পনায় (রোডম্যাপ)। এক্ষেত্রে নির্বাচনি মালামাল কেনাকাটা থেকে শুরু করে গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত সব কাজের সময় সীমানা নির্ধারণ করা থাকবে। 

তবে সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশ দেখেই এই নির্বাচনি রোডম্যাপ চূড়ান্ত করবে নির্বাচন কমিশন। কেননা নির্বাচনি সংস্কারের জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ (আরপিও) অন্যান্য নির্বাচনি আইনকানুন সংশোধন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়ে আইন-বিধি সংস্কার, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। 

 

 

এ ছাড়া নির্বাচনের বাজেট প্রস্তুত করার কাজ চলমান রয়েছে। যদিও কমিশন বলছে, এবারের রোডম্যাপ তৈরি হবে কমিশনের কাজের জন্য। তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে না। ইসির একটি সূত্র জানিয়েছে, সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের ব্যালট পেপারের কাগজসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটার পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত কর্ণফুলী পেপার মিলের (কেপিএম) কাছে কাগজ প্রস্তুত রাখতে চিঠি দেওয়া হবে। 

 

 

সংসদ নির্বাচন ছাড়া উপজেলা-সিটি নির্বাচনে ব্যালট পেপার ছাপানোর জন্য তিন রঙের কাগজ প্রয়োজন হয়। সাধারণত হলুদ, নীল ও গোলাপি রঙের কাগজ দিয়ে ব্যালট পেপার ছাপানো হয়। অন্যদিকে নির্বাচনের ব্যালট পেপারের কাগজ কেনার পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটার কার্যক্রমও শুরু হবে রোডম্যাপ চূড়ান্ত হলে।