NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬ | ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা শেখ হাসিনার, সহকর্মীদের নিয়ে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা পরিবেশ মেলার স্টল ঘুরে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী, উপহার পেলেন শিশুদের আঁকা ছবি আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হচ্ছেন রাবাব ফাতিমা হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে হামলার ষড়যন্ত্র, অভিযুক্ত ৮ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা, শেষ বিদায় খামেনিকে মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স প্রকাশ্যে দীপিকার বেবি বাম্প Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ জাতিসংঘে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও সময়োপযোগী জাতিসংঘ পুলিশ গঠনের আহ্বান পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ একটি জাতীয় আন্দোলন : প্রধানমন্ত্রী
Logo
logo

একাই উদ্ধার করেছেন ৭ হাজার মোবাইল ফোন


খবর   প্রকাশিত:  ১২ মার্চ, ২০২৪, ০৫:২০ পিএম

একাই উদ্ধার করেছেন ৭ হাজার মোবাইল ফোন

প্রতিদিন মোবাইল ফোন চুরি, ছিনতাই বা হারিয়ে যাওয়ার অনেক ঘটনা ঘটে। তবে উদ্ধার হয় কম। বড় কোনো ঘটনা না হলে সাধারণত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ কাজে সময় ব্যয় করতে চায় না। এর বিপরীতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজটি করে চলেছেন এসআই মিল্টন কুমার দেব দাস। পুলিশের নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গত ১০ বছরে তিনি প্রায় সাত হাজার মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছেন। হারানো ফোন মানুষের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া যেন তাঁর নেশায় পরিণত হয়েছে। ফলে শুধু নিজের দায়িত্বাধীন এলাকা নয়, সারাদেশ থেকে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক ফোন উদ্ধারের অনুরোধ পান তিনি।

বর্তমানে রাজধানীর খিলগাঁও থানায় কর্মরত এসআই মিল্টন। তিনি বলেন, হারানো সব ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। যেসব ফোন হাতবদল হয়ে পরে ব্যবহার হয়, সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালাই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চেষ্টা সফল হয়। মজার বিষয় হলো, ৯০ শতাংশ ফোন উদ্ধারের জন্য আমি ঘটনাস্থলে যাই না। বরং ফোনের ব্যবহারকারীকে বুঝিয়ে বলি, চোরাই ফোন কেনা বা ব্যবহার করাও অপরাধ। এতেই কাজ হয়। তখন অবশ্য অনেকে নিশ্চিত হতে চায় যে আমি পুলিশ কিনা। সে ব্যাপারে আশ্বস্ত হলে তারা ফোন ফিরিয়ে দেয়। তিনি জানান, আবার কিছু ফোনের যন্ত্রাংশ আলাদা করে বিক্রি করা হয়। সেই ফোনগুলো আর শনাক্ত করা যায় না। আর কিছু ফোন ভারতে পাচার হয়ে যায়। সংগত কারণে সেগুলোও আর পাওয়া যায় না।

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, একবার ভারতে হারানো ফোন তিনি দেশে উদ্ধার করেছেন। বাংলাদেশি এক ব্যক্তি ভারতে বেড়াতে গিয়ে ফোনটি হারান। সেখানেই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে দেশটির পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, ফোন সীমান্ত পার হয়ে এ দেশে ঢুকেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা কোনোভাবে এসআই মিল্টনের বিষয়ে অবহিত ছিলেন। তারা বিষয়টি দেখার অনুরোধ জানান। তাদের তথ্যসূত্র ধরে ফোনটি উদ্ধার করেন তিনি। এ ছাড়া ক্যান্সার আক্রান্ত এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। সেই ফোন উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়ায় তিনি অনেক খুশি হন। এতে মিল্টনও খুব আনন্দিত বোধ করেন। ভারতীয় এক নাগরিক বাংলাদেশে বেড়াতে এসে ট্রেনে ফোন হারিয়ে ফেলেন। ফোন উদ্ধার করে দেওয়ায় তিনিও খুব খুশি হয়েছিলেন।

মিল্টন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় একবার আমার মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। পুলিশে চাকরি পাওয়ার পরও বিষয়টি আমার মাথায় ছিল। আমি দেখেছি, অনেক দামি জিনিসের চেয়েও লোকে ফোন হারালে বেশি কষ্ট পায়। তাই মানুষের সেই কষ্ট লাঘবের জন্য ফোন উদ্ধারের কাজটি করে যাচ্ছি। শুধু দামি ফোন নয়, কারও অতি দরকারি বাটন ফোন হারিয়ে গেলে সেটিও উদ্ধারের চেষ্টা চালাই। তবে একটি নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করি। জিডি হওয়ার অন্তত তিন মাস পর আমি অভিযোগটি নিই। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানার তদন্ত কর্মকর্তা ফোনটি উদ্ধার করতে না পারলে আমি চেষ্টা শুরু করি। এ কাজে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাকে অনেক সহায়তা করেন। তাদের সমর্থন ও কারিগরি সহায়তা ছাড়া এত ফোন উদ্ধার সম্ভব হতো না। তিনি জানান, তাঁর দেখাদেখি এখন অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ফোন উদ্ধারে মনোযোগী হয়েছেন।